অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয়

সরকারি চাল পাওয়া যাবে ১০ টাকায়

জুমবাংলা ডেস্ক : করোনাভাইরাসের কারণে দেশে চলছে পালাক্রমে লকডাউন। একের পর এক লকডাউন দেয়া হচ্ছে। সঙ্কুচিত করে দেয়া হয়েছে চলাচলের বাহন। জনসাধারণের অবাধ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা। মানুষকে ঘরে রাখতে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এমন অবস্থায় অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়তে হবে দিনমজুরদের। তাই এ শ্রেণির মানুষের কথা চিন্তা করে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে কমদামে ডাল ও ভোজ্যতেল বিক্রির চিন্তাও রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে গ্রামীণ এলাকায় কার্ডধারী প্রায় ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে এ কার্যক্রম চালু নেই।

তবে শহরাঞ্চলে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রতিকেজি ৩০ টাকা দরে খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রি করা হয়। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্টিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এবার বাজারে চালের দাম বেশি না হওয়ায় এর চাহিদা একেবারেই কম। তাই গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বরাদ্দকৃত চালের মাত্র ১ হাজার মেট্টিক টন বিক্রি হয়েছে।

বাকি চাল এখনো অবিক্রিত রয়ে গেছে। এসব অবিক্রিত চালই আরও বেশি ভর্তুকি দিয়ে লকডাউনকালীন খোলাবাজারে দরিদ্র মানুষের নিকট ১০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে চায় সরকার। ওএমএসের ট্রাক থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে একটি পরিবার একবারে সর্ব্বোচ্চ পাঁচ কেজি করে চাল কিনতে পারবেন।

এজন্য সরকারকে অতিরিক্ত কোনো ভর্তুকিও দিতে হবে না। কারণ চলতি বাজেটে খাদ্য ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু ওএমএসের চাল বিক্রি না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে ভর্তুকি কমিয়ে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। এখন ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রি করলে আগের বরাদ্দকৃত ভর্তুকি ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় হয়ে যাবে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘৩০ টাকা কেজি হওয়ায় ওএমএসের চাল কেউ কেনে না। তাই আজ (সোমবার) খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ চালের দাম কমিয়ে ২৫ টাকা কেজি করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে লকডাউনকালীন শহরের দরিদ্র মানুষের জন্য আরও কম দামে চাল দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের। তাই আমরা এক্ষেত্রে ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অর্থসচিবের নিকট পাঠানো হয়েছে। অর্থসচিব অনুমোদন দিলেই অর্থমন্ত্রীর জন্য সারসংক্ষেপ করা হবে। এটি খুব শিগগিরই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। এমনকি আগামী ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দেবেন সেখানে এটি বাস্তবায়নের কথাও থাকতে পারে।’

লকডাউনকালীন শহর এলাকায় বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড প্রায় বন্ধ থাকবে। তাই সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়বে স্বল্প আয়ের দরিদ্র মানুষ। এদের কেউ রাস্তায় বসে পণ্য বিক্রি করে, কেউবা রিকশা চালায়, আবার কেউ দিনমজুর। যাদের অধিকাংশের বসবাস বস্তি এলাকায়। করোনার কারণে এদের অধিকাংশ কিছুদিনের মধ্যে বেকার হয়ে যাবে। আবার কারও আয় কমে যাবে। তাই এইসব মানুষকে রক্ষার জন্য ম্যাসিভ আকারে ওএমএস চালু করার পরিকল্পনা সরকারের। এরই অংশ হিসেবে সীমিত সময়ের জন্য হলেও শহরের দরিদ্র লোকদের ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়া হবে।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান টিসিবি মুজিববর্ষকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে চিনি, ডাল, ভোজ্যতেল ও পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। আসন্ন রমজানেও অন্য বছরের তুলনায় ৭ থেকে ১০ গুণ পণ্য নিয়ে টিসিবি মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

এ কার্যক্রমের আওতায় প্রতিজন ভোক্তা ৫০ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ চার কেজি চিনি, ৮০ টাকা প্রতিলিটার হিসেবে সার্বোচ্চ পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল, ৫০ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ দুই কেজি মশুর ডাল এবং ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। লকডাউনকালী ডাল ও সয়াবিন তেলের দাম আরও কিছুটা কমিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এক্ষেত্রে তেল ও ডালের দাম এখনো নির্ধারণ হয়নি।

যাদের বাচ্চা আছে, এই এক গেইমে আপনার বাচ্চার লেখাপড়া শুরু এবং শেষ হবে খারাপ গেইমের প্রতি আসক্তিও। ডাউনলোডকরুন : http://bit.ly/2FQWuTP

আরও পড়ুন

নতুন গুজবে স্যোশাল মিডিয়ায় ঝড়

Shamim Reza

নিউইয়র্কে করোনায় বাংলাদেশি সাংবাদিক স্বপনের মৃত্যু

mdhmajor

করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে চীন: রাষ্ট্রদূত

Saiful Islam

ছয় মন্ত্রী ও ছয় সচিবকে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী

Shamim Reza

করোনায় মারা যাননি বগুড়ার মাসুদ রানা

mdhmajor

২৮৭ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে: বিজিএমইএ

mdhmajor