Advertisement
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : দেশে আবার ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে করোনাভাইরাস। এ প্রেক্ষাপটে একের পর এক পিছিয়ে যাচ্ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। বস্তুত করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণেই পরীক্ষা পেছাতে বাধ্য হয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এসব পরীক্ষা পুনঃনির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠিত হবে কিনা, এ নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। কেন দেশে করোনাভাইরাস আবার ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে তা বহুল আলোচিত। করোনার বিস্তার রোধে সরকারের পক্ষ থেকে নানা রকম পদক্ষেপ নেওয়া হলেও জনসাধারণের আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলেই মহামারি পরিস্থিতির উন্নতির পরিবর্তে বারবার অবনতি হচ্ছে।

এ অবস্থায় দেশে কখন করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবে তা বলা মুশকিল। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে স্থবিরতার অংশ হিসাবেই বারবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় অনলাইনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যায় কিনা তা আলোচনায় আসবে এটাই স্বাভাবিক। কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে- আমার অভিজ্ঞতাও তা-ই বলে- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অন্তত ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী সঠিকভাবে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারেননি। কারণ প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট সংযোগযুক্ত ল্যাপটপ বা অন্য উপকরণ সংগ্রহ করার সামর্থ্য তাদের ছিল না। কাজেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে যেসব উপকরণ (ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ইত্যাদি) দরকার, সামর্থ্যরে সীমাবদ্ধতার কারণে ভর্তিচ্ছু অনেক শিক্ষার্থী যে সময়মতো সেগুলো সংগ্রহ করতে পারবে না, তা বলাই বাহুল্য।

প্রচুর অর্থ ব্যয় করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিচ্ছু সব শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড় করে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সঠিকভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যাবে কিনা সে বিষয়েও সন্দেহ থেকে যায়।

অনলাইন পরীক্ষায় ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন উপকরণ ভর্তিচ্ছু সব শিক্ষার্থী ব্যবহারে অভ্যস্ত কিনা, এটাও এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষা নকলমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত করাও অন্যতম এক চ্যালেঞ্জ। বস্তুত ভর্তি পরীক্ষাটি নকলমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত করা না গেলে সব আয়োজনই বৃথা যাবে।

অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পর দেশের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীও যদি অভিযোগ করেন, অনলাইন পরীক্ষায় ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার জানা না থাকার কারণে তারা অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তাহলে এর দায় কে নেবে? দেশের কোনো শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এটা তাদের অধিকার।

আমি মনে করি, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হবে, জনসাধারণ সেসব নিয়ম মানতে আন্তরিকতার পরিচয় দেবে। সবাই সচেতন হলে এবং যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে কাঙ্ক্ষিত সময়ে না হলেও কিছুটা দেরিতে হলেও দেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

দেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি নিশ্চিত করে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করতে সব নাগরিককে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। বস্তুত করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : শিক্ষাবিদ

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.