তাসবির ইকবাল: ​স্মৃতির সিন্দুক খুললে কিছু সময় হিরের মতো উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়। আমার সাংবাদিকতা জীবনের এই যে পথচলা, সেখানে ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর সাথে কাটানো গত একটি বছর ঠিক তেমনই এক অমূল্য এবং ঐতিহাসিক সময়। দেখতে দেখতে ৩৬৫টি দিন পার হয়ে গেল। অথচ মনে হয়, এই তো সেদিন—বুকভরা একরাশ স্বপ্ন আর নতুন কিছু করার তীব্র নেশা নিয়ে পা রেখেছিলাম দেশের মোবাইল সাংবাদিকতার এই অনন্য বিদ্যাপীঠে। আজ যখন পেছনের দিকে তাকাই, তখন কেবল একটি বছরের ক্যালেন্ডারের পাতা দেখি না, দেখি নিজের ভেতর এক নতুন মানুষের জন্ম হওয়ার গল্প। এই এক বছর আমার কাছে কেবল একটি কাজ ছিল না, এটি ছিল আমার অস্তিত্বের এক বিশাল অংশ।

তাসবির ইকবাল
তাসবির ইকবাল
Advertisement

​সাংবাদিকতা জীবনে আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সময়গুলো কেটেছে প্রিয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টাইমসের সঙ্গে। যদি সত্যি করে বলতে হয়, তবে এই একটি বছরে আমি ইতিহাসের এমন সব মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছি যা একজন সংবাদকর্মীর জন্য আজীবনের পাথেয়। বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচন থেকে শুরু করে রাকসু নির্বাচন—ক্যাম্পাস রাজনীতির সেই উত্তাল দিনগুলোতে খবরের পেছনে ছুটে চলা ছিল এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। সেই মুহূর্তগুলোতে আমরা কেবল খবর সংগ্রহ করিনি, আমরা ইতিহাসকে চোখের সামনে বিনির্মাণ হতে দেখেছি। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল চ্যালেঞ্জের, আর প্রতিটি খবর ছিল দায়বদ্ধতার।

​উত্তরার সেই মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির কথা মনে পড়লে আজও বুকটা হু হু করে ওঠে। সেই শোকাতুর পরিবেশ, স্বজন হারানোদের আহাজারি আর চারপাশের হাহাকারের মাঝে দাঁড়িয়ে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা ছিল এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। আবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বিশাল রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞে অংশ নেওয়া ছিল আমার সাংবাদিকতা জীবনের একেকটি উজ্জ্বল মাইলফলক। সেই দিনগুলোতে কত নির্ঘুম রাত যে কেটেছে তার কোনো হিসেব নেই। কত রাত যে অফিসের ডেস্কে বা রাজপথে সংবাদের অপেক্ষায় কাটিয়ে দিয়েছি, তা কেবল আমার চারপাশের দেয়ালগুলোই জানে।

ঐ​পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমনও দিন গেছে যে টানা দুই দিন এক সেকেন্ডের জন্যও চোখের পাতা এক করতে পারিনি। শরীর ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ত, কিন্তু মনের ভেতরের সেই সংবাদের তৃষ্ণা আমাকে থামতে দেয়নি। এই যে এতো এতো পরিশ্রম, এতো ত্যাগ—এর পেছনে অর্জন হিসেবে আমি যা পেয়েছি তা হলো নিজেকে গড়ে তোলার এক সুবর্ণ সুযোগ। আমি বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতা কেবল তথ্যের আদান-প্রদান নয়, এটি নিজেকে চেনার এক দীর্ঘ লড়াই। বাংলাদেশ টাইমস আমাকে সেই লড়াইয়ে জয়ী হতে শিখিয়েছে।
​সাংবাদিকতার এই নেশা কেবল আমার একার নয়, এটি এক বিশ্বজনীন উন্মাদনা। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, সাংবাদিকতা যখন নেশায় পরিণত হয় তখনই বড় বড় পরিবর্তন আসে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের ময়দান থেকে সিবিএস নিউজের ওয়াল্টার ক্রনকাইট যখন সত্য তুলে ধরছিলেন, তখন তিনি কেবল চাকরি করছিলেন না, তিনি এক নেশায় মত্ত ছিলেন—সত্য প্রকাশের নেশা। কিংবা ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি ফাঁস করতে গিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের বব উডওয়ার্ড ও কার্ল বার্নস্টাইন যে দীর্ঘ লড়াই চালিয়েছিলেন, তা কেবল পেশাদারিত্ব দিয়ে সম্ভব ছিল না। তাদের ভেতরে ছিল এক পবিত্র আসক্তি। ঠিক তেমনি, আজকের যুগে প্রযুক্তির আধুনিকায়নে মোবাইল সাংবাদিকতা বা ‘মোজো’ সেই নেশাকে আরও বেগবান করেছে।

​আয়ারল্যান্ডের আরটিই (RTE) নেটওয়ার্কের গ্লেন মালকাহি যেমন বিশ্বজুড়ে মোজো বিপ্লবের ডাক দিয়েছেন, বাংলাদেশ টাইমস সেই একই মন্ত্রে এদেশের তরুণদের দীক্ষিত করছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আজ বিবিসি বা আল-জাজিরা যেভাবে মোবাইল সাংবাদিকতাকে মূলধারায় নিয়ে এসেছে, আমাদের এখানেও সেই হাওয়া বইছে। স্মার্টফোনটি যখন হাতে থাকে, তখন মনে হয় পুরো পৃথিবীটাই আমার কব্জায়। এই আত্মবিশ্বাস আমি পেয়েছি এই এক বছরের কঠিন অনুশীলনের মাধ্যমে। এই লড়াইয়ে যার কথা না বললেই নয়, তিনি হলেন বাংলাদেশ টাইমসের মোজো এডিটর ইন চিফ, আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই এবং বস সাব্বির আহমেদ। তার সুনিপুণ দিকনির্দেশনা আমাকে বারবার সাফল্যের মুখ দেখিয়েছে।

​একজন মেন্টর বা অভিভাবক হিসেবে তিনি যেভাবে হাত ধরে কাজ শিখিয়েছেন, তা বিরল। বিপদের সময় তার অভয় বাণী আর কাজের ক্ষেত্রে তার নিখুঁত পরিকল্পনা আমাকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও স্থির থাকতে সাহায্য করেছে। তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ, কারণ তিনি আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে একজন অপূর্ণ মানুষ থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যেতে হয়। বাংলাদেশ টাইমসে কাজ করে আমি আজ গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, আমি নিজেকে এখন একজন ‘One Man Army’ হিসেবে দেখি। মোবাইল সাংবাদিকতা যে কত শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে, তা এখানে কাজ না করলে হয়তো কোনোদিন জানাই হতো না। সাংবাদিকতা কেবল একটি কাজ নয়, এটি একটি শিল্প, যেখানে আপনাকে একইসাথে পরিচালক, চিত্রগ্রাহক এবং বর্ণনাকারী হতে হয়। সাব্বির ভাইয়ের মতো মানুষের সান্নিধ্য আমাকে সেই শিল্প আয়ত্ত করতে শিখিয়েছে।

​সাংবাদিকতায় আমার এই ছোট্ট ক্যারিয়ারে আমি নিজেকে আজও অনেক অপরিপূর্ণ মনে করি। অনেকে হয়তো অনেক দূর এগিয়ে যান, কিন্তু আমার কাছে মনে হয় আমি যেন প্রতিদিনই নতুন করে বর্ণমালা শিখছি। সবসময় নিজেকে একজন চিরন্তন শিক্ষার্থী মনে হয়। প্রতিদিন নতুন কোনো মানুষের সাথে কথা বলা, নতুন কোনো ঘটনার গভীরে যাওয়া—এই শিখতে পারার মধ্যে যে এক অদ্ভুত প্রশান্তি আছে, তা অন্য কোনো পেশায় পাওয়া সম্ভব নয়। এই শেখার নেশাই আমাকে বাঁচিয়ে রাখে, আমাকে নতুন উদ্যমে কাজ করতে উৎসাহিত করে। খুব অল্প বয়সেই আমার অনেক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ টাইমসে কাজ করতে পারাটা অনেকের কাছে আজও এক অলীক স্বপ্ন। বাংলাদেশ টাইমস কেবল একটি নাম নয়, এটি বাংলাদেশের মোবাইল সাংবাদিকতার অন্যতম অগ্রদূত।

​বর্তমান বিশ্বের সাংবাদিকতার প্রেক্ষাপট বেশ জটিল। ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’ (RSF)-এর রিপোর্টে দেখা যায়, সারা বিশ্বে সংবাদকর্মীরা ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ছেন। কিন্তু এই প্রতিকূলতার মাঝেই জন্ম নেয় প্রকৃত সাংবাদিকতা। যখন নেশাটা বড় হয়, তখন ভয় ছোট হয়ে আসে। গাজা বা ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা দেখছি তরুণ সাংবাদিকরা হাতে কেবল একটি স্মার্টফোন আর কানে হেডফোন নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাইভ করছেন। তাদের এই ‘মোজো’ সাংবাদিকতা প্রমাণ করে যে, বড় ওএস ভ্যান বা বিশাল ক্যামেরার চেয়েও সংবাদের প্রতি নিষ্ঠা বেশি জরুরি। ১৯শ শতাব্দীর শেষের দিকে নেলি ব্লাই যখন উন্মাদাগারের সত্য বের করে আনার জন্য নিজেকে পাগল সাজিয়ে সেখানে ভর্তি হয়েছিলেন, অথবা আজকের দিনে ফিলিপাইনের মারিয়া রেসা যখন সরকারি চাপের মুখেও সত্যের জয়গান গেয়ে নোবেল জয় করেন—তাদের সবার মাঝেই সাধারণ একটি বিষয় ছিল, সত্যের প্রতি এক ধরণের অলৌকিক নেশা।

​বর্তমান যুগে সাংবাদিকতা এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যালগরিদমের এই যুগে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এক বিশাল লড়াই। ফেক নিউজ বা ভুয়া খবরের ভিড়ে সত্যকে খুঁজে বের করা একজন সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব। আমি বিশ্বাস করি, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, মানুষের বিবেক এবং মাঠের অভিজ্ঞতার বিকল্প কোনো এআই হতে পারে না। বাংলাদেশ টাইমস আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে সঠিক সংবাদটি পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। এই লড়াইয়ে আমি নিজেকে প্রতিনিয়ত শাণিত করছি। সাংবাদিকতা মানে হলো ক্ষমতার চোখে চোখ রেখে কথা বলা। যখন দেখি শোষিত মানুষেরা আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে এক চিলতে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায়, তখন নিজের দায়িত্ববোধ বহুগুণ বেড়ে যায়।
​আমি কতটুকু সফল হতে পেরেছি তা জানি না, কারণ সাফল্যের পরিমাপ আমি নিজে করতে চাই না। আমার চারপাশের মানুষগুলো, আমার পাঠকরাই বলতে পারবেন আমি তাদের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি। তবে আমি সবসময়ই চেয়েছি বারবার ব্যর্থ হয়ে সফল হওয়া একজন মানুষ হতে। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, ব্যর্থ হলেই কেবল সফল হওয়ার আসল পথ তৈরি হয়। থমাস আলভা এডিশন যেমন বলেছিলেন, তিনি ১০ হাজার বার ব্যর্থ হননি বরং ১০ হাজারটি এমন উপায় খুঁজে পেয়েছেন যা কাজ করে না—সাংবাদিকতাও ঠিক তেমনি। প্রতিটি ভুল এসাইনমেন্ট, প্রতিটি হারানো সুযোগ আমাদের নতুন করে গড়ে তোলে। সংবাদকক্ষে যখন রাতভর শব্দের সাথে যুদ্ধ করি, যখন একটি হেডলাইন মেলাতে গিয়ে ভোরের আলো ফুটে ওঠে, তখন মনে হয় প্রতিটি ক্লান্তিই যেন একেকটি প্রাপ্তি।

​এই ক্যারিয়ারে দেশসেরা পাঁচটি গণমাধ্যমে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিই আমার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ টাইমস অনেক দিক থেকেই আমার কাছে সেরা এবং অনন্য মনে হয়েছে। এখানে যে স্বাধীনতা, যে সৃজনশীল পরিবেশ এবং যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আমি পেয়েছি, তা অতুলনীয়। এটি কেবল একটি অফিস নয়, এটি একটি পরিবার। এই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতির পাতায় জমা থাকবে। সাংবাদিকতাকে যারা কেবল পেশা হিসেবে নিয়েছেন, তারা হয়তো জানেন না এর গভীরতা কতটুকু। আমি সাংবাদিকতাকে কেবল একটি পেশা হিসেবে কখনো কল্পনাও করিনি। আমার কাছে সাংবাদিকতা একটি নেশা—এক পবিত্র আসক্তি।

​নিজের কাছে নিজে একটা কঠোর প্রতিজ্ঞা করে নিয়েছি। যেখানে যেভাবেই থাকি না কেন, সাংবাদিকতা থেকে আমি কখনো দূরে সরে যাব না। জীবনে বৈষয়িক অনেক কিছু হয়তো থাকবে না, ধন-সম্পদ হয়তো জমানো হবে না, কিন্তু আমার হাতে যেন একটি কলম থাকে আর মাথায় যেন সাংবাদিকতার চিন্তা থাকে। এটাই আমার অক্সিজেন। এই অক্সিজেন ছাড়া আমি এক মুহূর্তও বাঁচতে পারব না। লেখালেখি আর সাংবাদিকতা আমার রক্তে মিশে আছে, এটিই আমার পরিচয়। জাঁ পল সার্ত্র যেমন বলতেন, মানুষের অস্তিত্বই তার সারমর্মের আগে আসে—আমার ক্ষেত্রে সাংবাদিকতাই আমার অস্তিত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ টাইমসের জয় হোক—এই প্রার্থনা আমি সবসময় করি। এই প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় হোক, আরও মানুষের কর্মসংস্থান হোক এবং দেশের সাংবাদিকতায় এক নতুন বিপ্লব নিয়ে আসুক।
​পরিশেষে এটুকুই বলব, সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়, এটি একটি আদর্শের নাম। আমি সেই আদর্শের পথে আজীবন অবিচল থাকতে চাই।

সাংবাদিকতা হলো সেই মশাল যা অন্ধকারের মধ্যে আলো ছড়িয়ে দেয়। এই পেশায় আসতে হলে আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে ত্যাগের জন্য, প্রস্তুত থাকতে হবে অবিরাম লড়াইয়ের জন্য। একজন সাংবাদিককে হতে হয় ইস্পাতের মতো শক্ত আবার একই সাথে শিশুর মতো সংবেদনশীল। তাকে বুঝতে হয় রাজপথের উত্তাপ আবার একইসাথে অনুভব করতে হয় নিভৃত কোণে বসা একজন দুস্থ মানুষের দীর্ঘশ্বাস। সত্যের পথ সবসময়ই পিচ্ছিল ও কণ্টকাকীর্ণ হয়, কিন্তু সেই পথে হেঁটে যাওয়ার মধ্যে যে আনন্দ আছে, তা জাগতিক কোনো সুখের সাথে তুলনা করা চলে না। সাংবাদিকতা আমার জীবন, আর এই নেশাই আমার শেষ গন্তব্য। আমার হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনে যেন কেবল একটাই সুর বাজে—মানুষের জন্য সত্য, সত্যের জন্য সংগ্রাম।

​লেখক পরিচিতি: তরুণ কবি ও সাংবাদিক।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Tarek Hasan is a professional journalist and currently works as a sub-editor at Zoom Bangla News. With six years of experience in journalism, he is an experienced writer with a strong focus on accuracy, clarity, and editorial quality. His work contributes to delivering reliable and engaging news content to digital audiences.