Views: 352

বিভাগীয় সংবাদ সিলেট

সাইফুর যেভাবে সন্ত্রাসী ও ধর্ষক হয়ে ওঠে


জুমবাংলা ডেস্ক : সাইফুর রহমান। যার চেহারার মধ্যেই ফুটে আসে ভয়ংকর এক সন্ত্রাসীর সংস্করণ। এমসি কলেজ ও ছাত্রাবাসে এমন কোনো অপকর্ম নেই যেখানে তার হাত ছিল না। ছাত্রাবাসে অবৈধ সিট দখল, সিট বাণিজ্য, খাবারের টাকা না দেওয়া, ক্রীড়া সামগ্রীর জিনিসপত্র বিক্রি করে দেওয়া, সাধারণ ছাত্রদের হয়রানি, মারধর, গালাগালি, মিছিল মিটিংয়ে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা ছিল তার নিত্যনৈমিত্তিক কাজ।

ছাত্রাবাসের পাশের বাজার বালুচরে সে কখনো টাকা পরিশোধ করত না। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে সে দলবল নিয়ে রেস্টুরেন্টে ও বিভিন্ন দোকানে খাওয়া দাওয়া করত। তার বিরুদ্ধে বাকিতে খাওয়ার এসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ভয়ে এতদিন চুপসে ছিলেন সেখানের ব্যবসায়ীরা।

শুধু রেস্টুরেন্টে নয়, সাইফুর টিলাগড় ও বালুচরের সেলুনগুলোতে টাকা না দিয়েই চুল ও দাড়ি কাটত। টাকা চাইলে দোকান ভাঙচুরের ভয় দেখাতো। এত গেল তার ছাত্রাবাসের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের আমলনামা। এবার আসি কলেজ ক্যাম্পাসে সে কি করতো! কলেজের এমন কোনো নিয়মিত ছাত্রী নাই যে তাকে আজরাইলের মতো ভয় পেতো না! ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রীদের ইভটিজিং করা ছিল তার নেশা। এক ছোট বোন একটু আগে কল দিয়ে জানাল, সে নাকি একবার ধর্ষণের ভয় দেখিয়েছিল। তারপর থেকে ছোট বোনটি দেড় বছর ক্যাম্পাসে আসেনি। আসলেও হাত মোজা কিংবা বোরকা পড়ে চুপিসারে আসতো!

মেয়েদের ওড়নায় টান দেওয়া ছিল তার খুব সাধারণ একটি কাজ। তার কর্মকাণ্ড নিয়ে কলেজ ছাত্রলীগ এর দুটি পক্ষ বিব্রত থাকলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা কখনোই নেওয়া হয়নি। সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আমার এক সহকর্মীকে গেল বছর সে শাসিয়েছিল। হাতও তুলতে চেয়েছিল। আমি থাকায় সে আর সাহসটা করেনি। পরে সে দলবলে নিয়ে টিলাগড়ের ভুট্টো রেস্টুরেন্টে ক্ষমা চেয়ে যায়! সাইফুরের বিরুদ্ধে প্যান্টের বেল্ট খুলে মারধরের অভিযোগ রয়েছে।


তাকে সবসময় সঙ্গ দিতো তার সঙ্গে থাকা ছেলেরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র আমাকে জানান, ২০১৮ সালে তিনিসহ তার বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ভবনের সামনে। এ সময় সাইফুর এসে তাদের সঙ্গে থাকা মেয়ে বন্ধুটিকে উত্যক্ত করেন। সবাই প্রতিবাদ করলে সাইফুর সবাইকে বেধড়ক প্যান্টের বেল্ট দিয়ে পেঠাতে থাকে। লজ্জা, আত্মসম্মান ও ‘ক্ষতাসীন‘ সাইফুরের ভয়ে ওই শিক্ষার্থীরা কাউকে এই বিষয়ে বলেননি।

ঘটনা শুনে মেয়েটির গরিব অভিভাবক তাড়াহুড়ো করে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন। এভাবেই শত মায়ের, বাবার, ভাইয়ের, বোনের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে সাইফুর। এভাবেই তার সন্ত্রাসী জীবনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল। মোটরসাইকেল নিয়ে নিয়মিত মহড়া দিতো ক্যাম্পাসে সে। ইচ্ছা করেই সে অনেক ছেলেমেয়েদের ধাক্কা দিতো। শুধুমাত্র ভয়ে কেউ কিছু বলেননি। তাকে যারা লালন পালন করতো তাদের কাছেও অভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার পাওয়া যেত না।

করোনার পূর্বে প্রতিদিনই এমসি কলেজের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে করতে শত শত মানুষ আসতেন। সেখানেও বিভিন্ন পন্থায় দল নিয়ে ছিনতাই করতো সাইফুর! ছিনতাইয়ের টাকা দিয়ে মাদক সেবন করতো তার দখলকৃত ছাত্রবাসের বাংলাতো।

সর্বশেষ সে গত শুক্রবার যে কাজটি করেছে সবাই তা জেনে গেছেন। এর আগেও সাইফুর ও তার গংদের দ্বারা অনেক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ রবিবার সকালে ভারত পালিয়ে যাওয়ার সময় সুনামগঞ্জের ছাতকে সাইফুর গ্রেপ্তার হয়েছে। অনেকেই স্বস্তি পাচ্ছেন। এই স্বস্তি যাতে জীবনভর সবাই ফেলতে পারেন সেই ব্যবস্থাই প্রশাসন করবে বলে বিশ্বাস করছি।

এ রকম সাইফুর হয়তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এমসি কলেজ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয়ে যাবে। ক্ষমতার লোভ এ রকম সাইফুর তৈরি করছে। প্রত্যাশা করি এ রকম সাইফুর আর সবুজ ক্যাম্পাসে বেড়ে ওঠার সাহস পাবে না। আমার ক্যাম্পাসের প্রতিটি বোন-ভাই ও শিক্ষকরা যাতে এ রকম সন্ত্রাসীদের হাত থেকে নিরাপদ থাকেন সেটাই কামনা করি।


যাদের বাচ্চা আছে, এই এক গেইমে আপনার বাচ্চার লেখাপড়া শুরু এবং শেষ হবে খারাপ গেইমের প্রতি আসক্তিও।ডাউনলোডকরুন : https://play.google.com/store/apps/details?id=com.zoombox.kidschool



আরও পড়ুন

ইউপি নির্বাচনে নৌকাকে হারিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়

Saiful Islam

ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাতদলের চার সদস্য আটক

Saiful Islam

আ’লীগ নেতাকে পেটাল বাস ড্রাইভার

Saiful Islam

দোকানীর কিল-ঘুষিতে প্রাণ গেল ক্রেতার

Saiful Islam

ঢাবি এলাকা থেকে আবারো নবজাতকের লাশ উদ্ধার

Saiful Islam

বগুড়ায় মাইক্রোবাস চাপায় সেনা সদস্য নিহত

Saiful Islam