সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন জ্যোতির বিরুদ্ধে আনারস প্রতীকের প্রচার-প্রচারণায় বাধা ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। আনারস প্রতীকের প্রার্থী এ্যাড. মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার বরাবর দুই দফা লিখিত অভিযোগ করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মানিকগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী এ এফ এম তৈয়বুর রহমান। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
গতকাল বুধবার রির্টার্নিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন জ্যোতি, ছেলে তানভীর হোসেন খান মহিদ ও তার দলবল নিয়ে এ্যাড মুহাম্মদ আলমগীর হোসেনের উপর আক্রমণ করে। মহিলাদের উপর নির্যাতন চালায়। এমতাবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর আনোয়ার হোসেন জ্যোতি, তার ছেলে মহিদ ও হরগজ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লাল মিয়াসহ তাদের ক্যাডার বাহিনী আনারস প্রতীকের প্রার্থী এ্যাড. মুহাম্মদ আলমগীর হোসেনকে তার বাড়ী থেকে তুলে আনতে যায়। ঘটনা টের পেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তিনি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী, তার ক্যাডার বাহিনী ও সমর্থকরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনকি প্রচার করছে যে, তারা ভোট কেন্দ্র দখল, বহিরাগতদের দিয়ে অতর্কিত আক্রমণ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই এবং জাল ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্স ভর্তি করাসহ ভোট কম পেলেও বেশি দেখিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের বাধ্য করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে ঘোষণা করে চেয়ারম্যান বানাবে।
আনারস প্রতীকের প্রার্থী এ্যাড, মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, নির্বাচনের শুরু থেকেই আমাকে নানাভাবে হয়রানি করছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। তারা আমাকে মনোনয়নপত্র দাখিলেও বাধা দিয়েছে। এরপর আমার প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিয়েছে, পোস্টার ছিড়ে ফেলেছে, ক্যাম্প করতে দেয়নি। এমনকি আমাকে ও আমার কর্মী-সমর্থকদের সরাসরি হুমকি দিয়েছে। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা যেখানেই প্রচারণায় যাচ্ছি, সেখানেই তাদের লোক দিয়ে বাধা সৃষ্টি করছে।
আলমগীর হোসেন বলেন, রিটার্নিং অফিসারের কাছে মৌখিকভাবে একাধিকবার অভিযোগ করেছি। দু’বার লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু কোন প্রতিকার পাচ্ছি না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন জ্যোতি বলেন, আমি ও আমার কোন কর্মী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে কোন প্রকার ভয়ভীতি দেখাইনি। গতকালও আমি ও এ্যাড আলমগীর এক সঙ্গে চা খেয়েছি, কুলাকুলি করেছি। আমি আমার কর্মীদের বলে দিয়েছি, মানুষের কাছে ভোট চাবে অনুনয় বিনয় করে। কাউকে ভয় দেখিয়ে ভোট পাওয়া যায় না।
নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেন আনোয়ার হোসন জ্যোতি।
উল্লেখ্য, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন জ্যোতি সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেকের মামাতো ভাই।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


