Views: 3780

জাতীয়

সিগারেটের ফিল্টারই বলে দিলো মৃত নারীদের ধর্ষণের রহস্য


জুমবাংলা ডেস্ক : মামার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে কাজ করতো ২০ বছর বয়সী মুন্না ভগত। কিন্তু পেশাগত দায়িত্বের চেয়ে জঘন্যতম কাজেই মনোযোগ ছিল মুন্নার। রাতের আঁধারে মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য নেয়া নারীদের ধর্ষণ করতো এ তরুণ।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে যেসব লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেয়া হতো, সেসব লাশের মধ্য থেকে মৃত নারীদের ধর্ষণ করতো মুন্না।

সিআইডি’র বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ থেকে পাওয়া মৃত নারীদের দেহে পুরুষ শুক্রানুর উপস্থিতি পায় সিআইডি। কিন্তু একাধিক নারীর মরদেহে একজন পুরুষের শুক্রানুর উপস্থিতি তাদের চমকে দেয়। তারা সেই পুরুষকে চিহ্নিত করার জন্য তারা অনুসন্ধানে নামে।

অনুসন্ধানে নেমে সিআইডি জানতে পারে, সোহরাওয়র্দী হাসপাতালের মর্গের মূল ডোম রজত কুমার। তাকে সহায়তা করে আরো ৫/৬ জন। তার মধ্যে রজতের ভাগ্নে মুন্না ভগত রাতে মর্গের পাশেই একটি কক্ষে থাকে। মুন্নাকেই সন্দেহ হয় সিআইডির। গুমের শিকার হওয়া এক যুবকের স্বজন সেজে মুন্নার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন সিআইডির দুই কর্মকর্তা।


সিআইডি কর্মকর্তাদের একজন জানান, বেশ কয়েকদিন তারা মুন্নাকে চোখে চোখে রাখেন। রাতে মুন্নাই থাকে এটি নিশ্চিত হতে তারা রাত ১টা বা ২টায়ও মর্গে যান। ছবি দেখিয়ে জানতে চেয়েছেন এই চেহারার কোনো লাশ মর্গে এসেছে কি-না। এভাবেই মুন্নার সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় হয়। এ সুযোগে মুন্নার পান করা সিগারেটের ফিল্টার সংগ্রহ করেন তারা। ফিল্টার থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ’র সঙ্গে মিলে যায় ওই পাঁচ কিশোরীর দেহে পাওয়া ডিএনএ’র।

বিবৃতিতে সিআইডি বলেছে, মরদেহে পাওয়া শুক্রানুর ওপর ভিত্তি করে সেই পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়। পরে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানার কয়েকটি ঘটনা থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল মিলে যায়।

প্রাথমিকভাবে সিআইডি’র ধারণা ছিল, প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে অথবা হত্যার পর ধর্ষণ করেছে। তবে পরে আরো বিস্তারিত অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের পর সিআইডি সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যেকোনো একজন ব্যক্তি মরদেহের ওপর ‘বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ’ করছে।

এরপর গোপনে-প্রকাশ্যে নজর রেখেই যাচ্ছিল পুলিশ। তারা একটা ব্যাপারে নিশ্চিত হয় যে রাতে লাশ পাহারা দিতে নিযুক্ত থাকা লোকদের ছাড়া বাইরের কারো পক্ষে মর্গে প্রবেশ করা সম্ভব না। এরপরই ডোমদের গতিবিধি নজরে আনে এবং মুন্না ভগত নামের ওই তরুণ চিহ্নিত হয়।

সন্দেহের ভিত্তিতে ওই নির্দিষ্ট হাসপাতালের ডোমদের গতিবিধি পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা। ওই তদন্তের সময় জানা যায় যে, হাসপাতালটির একজন ডোম পাঁচটি ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর মরদেহ পাহারা দেয়ার জন্য রাতে মর্গে ছিল।

অভিযুক্ত যুবক তদন্তের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গা ঢাকা দেয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে সিআইডি তাকে গ্রেফতার করে। সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছে।


যাদের বাচ্চা আছে, এই এক গেইমে আপনার বাচ্চার লেখাপড়া শুরু এবং শেষ হবে খারাপ গেইমের প্রতি আসক্তিও।ডাউনলোডকরুন : https://play.google.com/store/apps/details?id=com.zoombox.kidschool



আরও পড়ুন

চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঢাকা সফর স্থগিত

Saiful Islam

চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাজী সেলিমের স্ত্রীর মৃত্যু

Saiful Islam

বলাৎকার নিয়ে বক্তব্য কই, বাবুনগরীকে প্রশ্ন

globalgeek

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক প্রয়োজন: সিবিআইআর

Saiful Islam

নিবন্ধনের অনুমোদন পেলো আরও ৫১ অনলাইন নিউজ পোর্টাল

Saiful Islam

সরকার দেশব্যাপী রেল যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

Mohammad Al Amin