সিলেটে এবার ইফতারির জন্য স্ত্রীকে বেঁধে নির্যাতন, শ্বশুরকে মারধর

জুমবাংলা ডেস্ক : সিলেটের ওসমানীনগরে মেয়ের বাবার বাড়ি থেকে ইফতারীতে সাজানো থালা ও ঈদে নতুন কাপড় নিয়ে পারিবারিক কলহে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনার ঠিক একদিন পরই শ্বশুরবাড়ি থেকে ইফতার ও জামাকাপড় না পাওয়ায় রশি দিয়ে বেঁধে স্ত্রী ও বৃদ্ধ শ্বশুরকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৯ মে) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সাদিপুর ইউপির চরসম্মানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নির্যাতিত গৃহবধূর পিতা উপজেলার সাদিপুর ইউপির দক্ষিণ কালনিচর গ্রামের মৃত কুটি মিয়ার ছেলে বৃদ্ধ আব্দুস সহিদ (৬০) বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাদিপুর ইউপির চরসম্মানপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে মামুন মিয়ার সঙ্গে প্রায় এক বছর পূর্বে একই ইউপির দক্ষিণ কালনীচর গ্রামের আব্দুস সহিদের কন্যা জায়দা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী মামুনসহ তার পরিবারের লোকজন গৃহবধূ জায়দাকে নির্যাতন করে আসছেন। এ ব্যাপারে একাধিকবার সালিশ বৈঠকে মিমাংসা হয়।

রোববার সকাল ৯টার দিকে শ্বশুরবাড়ির ইফতারি ও জামাকাপড় না আসায় গৃহবধূ জায়দাকে তার স্বামী মামুনসহ পরিবারের লোকজন রশি দিয়ে খাটের সাথে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করে। এ সময় গৃহবধূ জায়দার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমসহ তার ঠোঁট কেটে যায়। বিষয়টি জায়দার পিতা আব্দুস সহিদ জানতে পেরে মেয়ের বাড়ি চরসম্মানপুর গেলে জামাই মামুন মিয়ার পিতা আমির আলী বিয়াই আব্দুস সহিদকে বিভিন্ন ভাষায় গালমন্দ করে এবং মারধর করেন। পরে সেখান থেকে কোনো মতে পালিয়ে এসে জায়দার পিতা আব্দুস সহিদ মেয়েকে উদ্ধারসহ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য ওসমানীনগর থানায় রোববার বিকেলে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

গৃহবধূ জায়েদার ভাই আব্দুল তাহিদ বলেন, আমার বোনকে তার স্বামী মামুনসহ তাদের পরিবারের লোকজন ইফতারির জন্য রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করেছে। খবর শুনে আমার বাবা বোনের বাড়িতে গেলে তাকেও তারা মারধর করে। এ ঘটনার আমি সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

সদিপুর ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য স্বপন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তার ওয়ার্ডের চরসম্মানপুর গ্রামের স্বামী ও তার পরিবার ইফতারির জন্য গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনার কথা শুনেছি।

ওসমানীনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক ইফতারির জন্য গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনার একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য একজন এসআইকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


জুমবাংলানিউজ/এসআর