in

স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রী নাদিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জুমবাংলা ডেস্ক: ফেনীর বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী কায়সার মাহমুদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। রায়ে মামলার একমাত্র আসামী স্ত্রী শাহনাজ আক্তার নাদিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও একমাসের জেল দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. জেবুন্নেছা এই রায় প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহম্মদ জানান, ব্যবসায়ী কাওসার মাহমুদ আলোচিত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন জেলা ও দায়রা জজ বিচারক। এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ১৫ সাক্ষীকে উপস্থাপন এবং সন্দেহাতীতভাবে এই মামলা প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ সক্ষম হয়েছে। সেই কারণে বিচারক দণ্ডবিধি ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও একমাস কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নজির সওদাগর বাড়ির প্রফেসর আবুল খায়েরের ছেলে কায়সার মাহমুদের সাথে আনন্দপুর ইউনিয়নের বন্দুয়া দৌলতপুর গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে শাহনাজ নাদিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের মধ্যে মনমালিন্য দেখা দেয়। একপর্যায় ২০১৪ সালের ১১ এপ্রিল বিকেলে ডাক্তার দেখানোর জন্য স্বামী কাওসারসহ নাদিয়া বাসা থেকে বের হন।

এসময় স্ত্রী নাদিয়া তার স্বামী কাওসারকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ফালাহিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে ফেলে যায়। রাতে স্থানীয়রা কাওসারকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা প্রফেসর আবুল খায়ের কাওসারের স্ত্রী শাহনাজ নাদিয়া ও প্রেমিক মোঃ হারুনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই স্ত্রী নাদিয়াকে বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় নাদিয়া জড়িতের কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।

অপর আসামী হারুন ওই বছরের আগস্টে পলাতক অবস্থায় দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হওয়ায় তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

তবে রায়ে খুশি নয় নিহত কাওসারের বাবা প্রফেসর আবুল খায়ের। বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট সাইফুল্লাহ রাসেল বলেন, এই মামলায় একজন আসামি। আমরা তার সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড আশা করেছিলাম। কিন্তু তা এই আদালতে পাইনি। রায়ের নকল নিয়ে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

অন্যদিকে, ১৬৪ ধারা জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে বলে জানান আসামীপক্ষের আইনজীবী। তাই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার রায়ের দিন ধার্য করে আদালত।