হাজার বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে চীনে ৩৩ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের হেনান প্রদেশে প্রবল বৃষ্টিজনিত বন্যার পর প্রাদেশিক রাজধানী ঝেংঝু শহরে পাতাল রেলের টানেলে পানি ঢুকে অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত কয়েকদিনে ওই অঞ্চলে হাজার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।

বন্যার পানির তোড়ে শহরের বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং বহু ট্রেনের ভেতরেও বুক সমান পানি জমে যায়। ট্রেনের ভেতর অনেক যাত্রী আটকা পড়েন।

সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ট্রেনের ভেতর যাত্রীরা কোনমতে তাদের মাথা পানির ওপর ভাসিয়ে রাখতে সক্ষম হলেও ধীরে ধীরে সেখানে বাতাসের সরবরাহ শেষ হয়ে যেতে থাকলে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দেয়।

পানিতে তলিয়ে যাওয়া ট্রেনের ছাদ কেটে ও জানলা ভেঙে শত শত যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমের প্র্রতিবেদনে জানা গেছে।

এদিকে, পানির তোড়ে প্ল্যাটফর্ম ভেসে গেছে। পাতাল রেলের সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে পাঁচশ’র বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন।

প্রদেশের ১২টিরও বেশি শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ২ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনীও যোগ দিয়েছে।

অন্যদিকে, প্রবল বন্যায় মাটির ওপরে রাস্তাগুলো নদীর চেহারা নেয় বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে বহু গাড়ি ভেসে যেতে থাকে। হেনান প্রদেশে ১২টিরও বেশি শহরে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অনেকগুলো বাঁধ ভেঙে গেছে, কোথাও সেনাবাহিনী নামিয়ে উপচে পড়া নদীর পানি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেবার চেষ্টা চলছে।

বেশ কিছু জায়গায় ট্রেন ও বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পুরো প্রদেশ জুড়ে অসংখ্য বাড়িঘর, স্কুল এবং হাসপাতাল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

শহরে বন্যা প্লাবিত একটি নার্সারি স্কুল থেকে বাচ্চাদের উদ্ধার করা হয় বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে শিশুদের প্লাস্টিকের গামলা ভাসিয়ে উদ্ধার করার এই দৃশ্য দেখানো হয়।

এদিকে, আবহাওয়ার খবরে আগামী তিন দিন ধরে আরো বৃষ্টিপাত হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা বলেছেন, তারা জীবনে কখনো এমন বৃষ্টি দেখেননি।

এই বৃষ্টিপাতের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এরকম অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

তাছাড়া ইয়েলো রিভার অববাহিকায় ব্যাপক বাঁধ নির্মাণের ফলে পানি নেমে যাবার স্বাভাবিক পথগুলো ব্যাহত হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা আগেই সতর্ক করেছিলেন।


জুমবাংলানিউজ/এইচএম