
জুমবাংলা ডেস্ক : ৩১শে অক্টোবরের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে শতভাগ ডিজিটাল ক্যাবল সিস্টেম চালুর জন্য ক্যাবল অপারেটরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে ক্যাবল অপারেটরদের লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তিনি। সোমবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি টিভি চ্যানেল মালিকদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)- এর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এ কথা জানান। এসময় ক্লিন ফিড বাস্তবায়ন নিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদেরও সতর্ক করেন তথ্যমন্ত্রী। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের আকাশ উন্মুক্ত, সরকার কোনো চ্যানেল বন্ধ করেনি। করতেও বলেনি। সারাবিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্লিন ফিডে চ্যানেল সমপ্রচারিত হয়। বাংলাদেশেও এটি করতে হবে। এটি আইন।
আমরা সেই আইন কার্যকর করেছি মাত্র। কাজেই এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। এ নিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়াবে, সরকারকে বিব্রত করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ২৪টি বিদেশি চ্যানেল ক্লিন ফিড সরবরাহ করছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। আকাশ ডিটিএইচ এসব চ্যানেল সমপ্রচার করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যদেরও এগুলো চালানোর ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে কোনো চিঠির প্রয়োজন হলে আমরা তা ক্যাবল অপারেটরদের কাছে পাঠাবো। যদি এরপরও কেউ এগুলো না চালায় তাহলে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ হবে। সুতরাং শর্ত ভঙ্গের কাজ কেউ করবেন না। যারা ডাউন লিংকের অনুমতি নিয়েছে তাদের ব্যবসার স্বার্থে ক্লিন ফিড চালানো উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু বলেছিলাম, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, যা পৃথিবীর সব দেশেই আছে। সেটি হচ্ছে বিদেশি চ্যানেলকে অবশ্যই বিজ্ঞাপনমুক্ত সমপ্রচার করতে হবে এবং সেটি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, আমেরিকা সব জায়গায়ই মানা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে মানা হচ্ছিল না। আইনটি মানার জন্য দুই বছর ধরে তাগাদা দেয়া হচ্ছিল বলেও জানান সরকারের এ মন্ত্রী। তিনি বলেন, সব পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করা হয়েছে। এক মাসের বেশি সময় আগে আমরা বৈঠক করে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছিল, ১লা অক্টোবর থেকে আমরা আইনটি কার্যকর করবো। সরকার আইন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের স্বার্থে, মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে, শিল্পী-কলাকৌশলী, সাংবাদিক সবার স্বার্থে এ আইন কার্যকর করেছি। সুতরাং সবার স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ অবস্থান নেবে, সেটি কাম্য নয়। ক্যাবল অপারেটরদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যদি ক্লিন ফিডমুক্ত অনুষ্ঠানগুলো না চালান, তবে আপনাদের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ হবে। লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান, এমনকি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ক্যাবল অপারেটর লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। দেশের অপারেটররা শর্ত ভঙ্গ করলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করলে অন্যদের সুযোগ দেয়া হবে। তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ১লা নভেম্বর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সব ক্যাবল অপারেটিং সিস্টেমকে শতভাগ ডিজিটালাইজ হয়ে সমপ্রচার করতে হবে। আমাদের আশেপাশের দেশে ক্যাবল অপারেটিং সিস্টেম ডিজিটালাইজড হয়ে গেছে। এখানে ডিজিটাল সিস্টেম চালু করার কথা বললেই প্রণোদনার কথা হয়, ট্যাক্স তুলে দেয়ার কথা বলা হয়। এখানে টাকা তারা গ্রাহকের কাছ থেকে নিবেন। সেখানে প্রণোদনা বা ট্যাক্সের কথা আসবে কেন? প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী।
আইপি টিভি সময়ের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শত শত আইপি টিভির প্রয়োজন নেই। ব্যাঙের ছাতার মতো এদের কার্যক্রম পরিচালিত হতে দেয়া হবে না। আইপি টিভিকে অবশ্যই সরকারের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সমপ্রচার করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার রেজিস্ট্রেশন নীতিমালা তৈরি করছে। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য ও সমপ্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেন, অ্যাটকো’র সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক, সদস্য আহম্মেদ জোবায়ের, ডিবিসি নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ক্লিন ফিড বাস্তবায়নের জন্য তথ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান অ্যাটকো’র নেতারা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


