in ,

ইয়ং বয়েজের কাছে পরাস্ত রোনালদোর ম্যানইউ

ফাইল ছবি

স্পোর্টস ডেস্ক: সুইস ক্লাব ইয়ং বয়েজের কাছে ২-১ গোলে হতাশাজনক হার দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিশন শুরু করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এর মাধ্যমে ইউনাইটেডের জার্সি গায়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরাটা স্মরণীয় হলো না। যদিও ইউনাইটেডের হয়ে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন পর্তুগীজ সুপারস্টার। এদিকে রোমেলু লুকাকুর একমাত্র গোলে জেনিতের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেলসি।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনাল্ডো বার্নের ওয়াঙ্কডর্ফ স্টেডিয়ামে ১৩ মিনিটেই ইউনাইটেডকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। ব্রুনো ফার্নান্দেসের উড়ন্ত পাস নিজের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে দারুন দক্ষতায় বল জালে জড়ান রোনাল্ডো। এর মাধ্যমে তিনি ইউরোপীয়ান সর্বোচ্চ আসরে ১৩৫ গোল পূরন করেন। কিন্তু ৩৫ মিনিটে ইউনাইটেডের ইংলিশ ডিফেন্ডার এ্যারন ভন-বিসাকার লাল কার্ডে ঘুড়ে দাঁড়ায় ইয়ং বয়েজ। ক্রিস্টোফার মার্টিনসকে বাজেভাবে ট্যাকেলের অপরাধে মাঠ ত্যাগে বাধ্য হন ভন বিসাকা। এর ফলে বাকি সময়টা ইউনাইটেডকে একজন কম নিয়েই খেলতে হয়েছে। আর এই সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে ইয়ং বয়েজ। ৬৬ মিনিটে নিকোলাস মৌমি এনগামালেয়ার গোলে সমতায় ফেরে সুইস চ্যাম্পিয়নরা। ৭২ মিনিটে রোনাল্ডো ও ফার্নান্দেসকে উঠিয়ে নিয়ে জেসি লিনগার্ড ও নেমাঞ্জা মাটিচকে মাঠে নামান সুলশার। আর এই লিনাগার্ডের মারাত্মক ভুলেই ইউনাইটেডের কপাল পুড়ে। ইনজুরি টাইমে তার একটি দূর্বল ব্যাক-পাস গোলরক্ষক ডেভিড ডি গিয়ার কাছে পৌঁছানোর আগেই জর্ডান সেবাচু তা ছিনিয়ে নিয়ে জালে জড়ালে স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত হয়।

ইউনাইটেড অধিনাক হ্যারি ম্যাগুয়েরে ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘গ্রুপে এটাই আমাদের প্রথম ম্যাচ। প্রতিযোগিতায় ফিরে আসতে আমাদের হাতে আরো বেশ কিছু ম্যাচ বাকি আছে। আমাদের অবশ্যই ফিরতে হবে। পরবর্তী ম্যাচে আমরা তিন পয়েন্ট তুলে নেবার চেষ্টা করবো।’

দুই সপ্তাহ পর ইউনাইটেড ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পরবর্তী ম্যাচে ভিয়ারিয়ালকে আতিথ্য দিবে। স্প্যানিশ দলটি গত মৌসুমে ইউরোপা লিগের ফাইনালে ওলে গানার সুলশারের দলকে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছিল। গতকাল গ্রুপ-এফ’র প্রথম ম্যাচে ঘরের মাঠে তারা আটালান্টার সাথে ২-২ গোলে ড্র করেছে।

স্ট্যামফোর্ড ব্রীজে রোমেলু লুকাকু ৬৯ মিনিটে ডেডলক ভাঙ্গলে চেলসির ১-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয়। সেইন্ট পিটার্সবার্গের দল জেনিতের হোম ভেন্যু ক্রেস্টোভস্কি স্টেডিয়ামেই আগামী বছর মে মাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। সেজার আজপিলিকুয়েটার ক্রসে লুকাকুর হেডে থমাস টাচেলের দল তিন পয়েন্ট উপহার পায়। লুকাকু সম্পর্কে ম্যাচ শেষে টাচেল বলেছেন, ‘লুকাকু এমন একজন খেলোয়াড় যে তার দলের হয়ে নিয়মিত গোল পায়, আর এটা একটি দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক গোলই পুরো ম্যাচের আবহ বদলে দেয়।’

ইন্টার মিলান থেকে এবারই ব্লুজদের দলে ভেড়া লুকাকু প্রমান করেছেন শুধুমাত্র স্বীকৃত একজন স্ট্রাইকারই দলেই চেহারা পাল্টে দিতে পারে। গত মৌসুমে দলবদলের বাজারে ২০০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করেও একজন ভাল স্ট্রাইকারের অভাবে চেলসি অন্য দলগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠেনি। যদিও শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ঘরে তুলে ব্যর্থতার আবহ থেকে অনেকটাই বেড়িয়ে আসতে পেরেছিল টাচেল শিষ্যরা। এবার লুকাকুকে দলে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর ঘরোয়া প্রিমিয়ার লিগের শিরোপাটাও হাতে নিতে চায় ব্লুজরা।

এ নিয়ে ২০১৯-২০ মৌসুমের পর থেকে উয়েফা আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ১৪ ম্যাচে ১৪ গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন বেলজিয়ান তারকা লুকাকু। একই সময়ে এই স্ট্রাইকারের চেয়ে বেশি গোল করেছেন শুধু বায়ার্ন মিউনিখের রবার্ট লিওয়ানোডস্কি (২১), বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের আর্লিং হালান্ড (২০) ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ব্রুনো ফার্নান্দেজ (১৭)।

কোচ থমাস টাচেলের অধীনে বদলে যাওয়া চেলসিকে গোল দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আজ জেনিতও সেটা ভালই উপলব্ধি করেছে। টাচেল আসার পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৩ ম্যাচে কোন গোল হজম করেনি চেলসি। একই সময়ে চেলসির চেয়ে বেশি অন্য কোনো দল গোল হজম না করে থাকতে পারেনি। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ ১৪ ম্যাচের ১০টিতেই চেলসির বিপক্ষে কোন দল গোল করতে পারেনি। সূত্র: বাসস