in ,

২৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া জিনের বাদশা গ্রেফতার

জুমবাংলা ডেস্ক : চট্টগ্রামে এক সৌদি প্রবাসীর কাছ থেকে দফায় দফায় ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া কথিত জিনের বাদশা মো. আবদুল মান্নানকে দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি দু’জন হলেন, মো. জোবাইর হোসেন রিজভী ও আবু তৈয়ব। মো. আবুল হাসান সহিদ নামে এক সৌদিআরব প্রবাসীর দায়ের করা প্রতারণা মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

পুলিশ জানায়, মো. আবুল হাসান সহিদ নামে এক সৌদিআরব প্রবাসী ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে দেশে আসার পর ভিসা জটিলতায় আর কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারেননি। সৌদিআরবের মক্কা নগরীতে আদনান সাঈদ আল সাদী নামে সে দেশের এক নাগরিকের সঙ্গে পার্টনারশিপে হোটেল ব্যবসা করতেন তিনি। সৌদিআরবের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসার সমস্ত টাকা-পয়সা আদনান সাঈদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই ছিল।

দেশে ফিরে আসার পর আর্থিক অনটন শুরু হলে অভাবের তাড়নায় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রয় করার জন্য নগরীর হাজারী লেনে যান। সেখানে স্বর্ণের দোকানের এক কর্মচারীর মাধ্যমে কথিত জিনের বাদশা মো. আবদুল মান্নানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আবদুল মান্নান নিজেকে একজন পীর বলে পরিচয় দেয়।

সে দাবি করে, ধর্মীয় আধ্যাত্মিক শক্তি এবং জীনের মাধ্যমে সৌদি নাগরিক আদনান সাঈদ আল সাদীকে বাংলাদেশে এনে দিতে পারবে। বাংলাদেশে এসে সহিদের সম্পূর্ণ টাকাও সে ফেরত দিয়ে যাবে বলে প্রলোভন দেখায়। তাকে বাংলাদেশে আনতে হলে শুরুতে দুই লক্ষ টাকা, ৩ ভরি স্বর্ণ ও এক হাজার ডলার দাবি করে আবদুল মান্নান। এরপর সহিদকে পবিত্র কোরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ করানো হয় যেন এইসব কথা কাউকে ঘুণাক্ষরেও না বলে। কারো কাছে বললে তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হবে এবং তার পালিত জীন তাকে গলা টিপে হত্যা করবে বলে ভয় দেখায়। এমনকি তার সন্তানদের বড় ধরনের বিপদ হতে পারে বলে জানায়।

এরপর সহিদের কাছ থেকে দফায় দফায় ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় কথিত জিনের বাদশা মান্নান। পরবর্তীতে কোনো ফলাফল না পেয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় মান্নান ও তার ৩ সহযোগীর বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা দায়ের করেন সহিদ। গত বুধবার হাজারী গলি এলাকা থেকে ৪ নং আসামী আবু তৈয়বকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের হোয়াইক্যং এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১ নং আসামী আবদুল মান্নান ও ২ নং আসামী জোবাইর হোসাইন রিজভীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের আরেক সহযোগী পলাতক।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নেজামউদ্দিন বলেন, আসামীরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তারা মানুষের হতাশা, দারিদ্র ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।