in ,

২ সন্তানের মৃত্যু নিশ্চিতের পর জীবন দেন মা

জুমবাংলা ডেস্ক : মেয়ের লাশ পড়ে আছে খাটে। ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে আড়াই বছর বয়সী ছেলে। একই ফ্যানের সঙ্গে রশিতে ঝুলছে মা সুমিতা খাতুনের লাশও। এমনি এক ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন মোহাম্মদপুর এলাকার ইসমাইল কলোনির পাশের এসএস হাউজিংয়ে। শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) ওই হাউজিংয়ের ৮ তলা ভবনের ৪র্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে সুমিতা খাতুন ও তার ছেলে-মেয়ের লাশ উদ্ধার করেন পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে- সুমিতা খাতুন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানার পাঙ্গাশিয়া এলাকার সোহেল রানার স্ত্রী। নগরের মুরাদপুর এলাকায় সোহেলের ইউনানি ওষুধের দোকান আছে। বিয়ের পর থেকে পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম নগরে বসবাস করছেন। দুই বছর আগে তিনি এসএস হাউজিংয়ের ওই ফ্ল্যাটে ভাড়ায় ওঠেন।

এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন- রাত ৯ টার পর থেকে বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সাড়ে ৩টার দিকে থানা পুলিশকে খবর দেয় সুমিতার স্বামী। খবর পেয়ে ভোর ৪ টার দিকে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। কিন্তু ভবনের দারোয়ান গেটে তালা ঝুলিয়ে ঘুমিয়ে পড়ায় তখন বাসায় ঢোকা সম্ভব হয়নি।

পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমরা বাসায় প্রবেশ করি। ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। বাসার ভেতরে ঢুকে যেই কক্ষে তিনটি লাশ পাওয়া যায়, ওই কক্ষের দরজাও লক ছিল। লক ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি, খাটের ওপর মেয়ের লাশ পড়ে আছে। একই ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ছেলে ও রশিতে সুমিতা খাতুনের লাশ ঝুলছে।’

তিনি আরও বলেন, যেহেতু বাসা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল, তাই প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, ছেলে এবং মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করে সুমিতা গলায় ফাঁস দিয়ে থাকতে পারেন। মেয়েটিকে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছে। এরপর ছেলেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয় কী কারণে সুমিতা আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার কারণ জানতে সুমিতার স্বামীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এদিকে, শুক্রবার সকালে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল শেষে দুপুর ১২টায় লাশ চট্টগ্রাম মেডিক্যালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সোহেল রানার দুলাভাই নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাত খেয়ে ৩টার দিকে দোকানে যায় সোহেল। এরপর রাত ৯ টায় বাসায় ফিরে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পায়। আধা ঘণ্টার মতো চেষ্টা করেও ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে চলে যায়। রাত ১১টার দিকে এসে আবারও চেষ্টা করে।

কিন্তু তখনও বাসায় ঢুকতে না পেরে আবারও ফিরে যায়। ওই সময় সোহেল আমার ভায়রা ভাইকে কল করে বিষয়টি অবহিত করে। পরে উনি আমাদের সবাইকে জানিয়েছেন। খবর পেয়ে সকালে তারা এই বাসায় আসেন। তিনি দাবি করেন, ১০ বছর আগে সোহেলের সঙ্গে সুমিতার বিয়ে হয়। এরপর থেকে তারা চট্টগ্রামে বসবাস করছেন। কিন্তু গত ১০ বছরে তাদের কোনও মনোমালিন্য হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সুমিতার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, আগের রাতে তাদের (স্বামী-স্ত্রী) মধ্যে ঝগড়া হয়। সোহেল মোবাইলে কোনও মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছে- এমন অভিযোগে দুই জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর ওই দিন দুই জন দুই রুমে থাকেন।

পরে সোহেল তার শ্বশুরকে বিষয়টি জানালে মোবাইলে কথা বলে তিনি মিটমাট করে দেন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সোহেল দোকানে চলে যায়। দুপুরে বিরিয়ানি নিয়ে বাসায় যায়। এরপর ৩ টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। পরে রাত ৯ টার দিকে বাসায় গিয়ে দেখে, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। তিনি আরও বলেন, সোহেলকে আটক করা হয়েছে। সুমিতার পরিবারের লোকজন আসছে। তারা এসে মামলা করলে তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।