৩৮ স্ত্রী ও ৮৯ সন্তানকে রেখে মারা গেলেন ‘বিশ্বের বিস্ময়’ পুরুষ জিয়না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবারের কর্তা হিসেবে স্বীকৃত জিয়না চানা মারা গেছেন। রোববার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

তিনি ৩৮ জন স্ত্রী, ৮৯ জন সন্তান ও ৩৩ নাতি-নাতনি রেখে গেছেন। তার এতো বড় পরিবারকে বিশ্বের বিস্ময় হিসেবে অনেকে মনে করেন।

ভারতের মিজোরামের আইজল জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, কিছুদিন আগে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন ও বার্ধক্যজনিত অন্যান্য সমস্যাজনিত কারণে ৭ই রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন চানা। রোববার বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

এ কর্মকর্তা জানান, তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে শেষকৃত্য ও অন্যান্য অনুষ্ঠান চূড়ান্ত করা হবে।

মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথংগা টুইটারে বলেন, ‘ভারী হৃদয় নিয়ে মিজোরাম মিঃ জিয়নাকে বিদায় জানালাম। ৩৮ জন স্ত্রী ও ৮৯ সন্তান নিয়ে তিনি বিশ্বের বৃহত্তম পরিবারের প্রধান হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। তার পরিবারের কারণে এ রাজ্য একটি বড় সংখ্যক পর্যটকদের আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। শান্তিতে থাকুন স্যার!

জিয়নঘাকা ১৯৪৫ সালের ২১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি সাধারণত জিয়ানা চনা নামে পরিচিত ছিলেন। আইজল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে তাঁর গ্রাম বকতাং ত্লাংনুয়ামে খ্রিস্টান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রধান ছিলেন তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, জিয়না ১৭ বছর বয়সে প্রথম স্ত্রী গ্রহণ করেন। প্রথম স্ত্রী জিয়নার চেয়ে তিন বছর বড় ছিলেন। জিয়নার প্রায় ১০০০ সদস্যের পরিবার ‘ছুয়ান থার রান’ (নিউ জেনারেশন হোম) নামে একটি চারতলা বাড়িতে থাকেন। পার্বত্য গ্রামের এ বাড়িতে ১০০ টিরও বেশি ঘর রয়েছে। জিয়নার বাড়িতে আত্মীয়স্বজন এবং দর্শনার্থীদের থাকার জন্য একটি অতিথিশালাও রয়েছে। বড় খ্রিস্টান পরিবারটির প্রায় একচেটিয়াভাবে একটি স্কুল এবং খেলার মাঠ রয়েছে। সিয়োনার ছেলেরা এবং তাদের স্ত্রী এবং তাদের সমস্ত শিশু একই ভবনের বিভিন্ন কক্ষে বাস করেন। তবে তাদের রান্নাঘর মাত্র একটি। তার স্ত্রীরা তার শোবার ঘরের পাশের একটি বড় কক্ষে থাকেন।

জিওনা পরিবার তাদের নিজেদের খরচ নিজেরাই চালাতে পারে। তবে মাঝে মাঝে তাদের অনুগামীদের কাছ থেকে অনুদান ও উপহার পায় তারা। পর্বতমালা সীমান্তবর্তী রাজ্যে সায়োনার জলাশয়টি পর্যটকদের আকর্ষণে পরিণত হয়েছে এবং পর্যটকরা তাদের পরিবার এবং সম্পর্কের পরিচালনা এবং প্রতিদিনের কার্যকারিতা সম্পর্কে জানতে সব সময়ই আগ্রহী।

পরিবারটি শৃঙ্খলা মেনে একসঙ্গে বাস করছে। জিয়নের প্রবীণ স্ত্রী জাঠিয়ানগি সহকর্মী ও সহযোগীদের পরিচালনার তদারকি করেন। খাবার প্রস্তুতের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, ধোয়ার মতো গৃহস্থালী কাজ সম্পাদনেরসব দায়িত্ব তার। তাদের পরিবারের এক রাতের খাবারে প্রয়োজন হয় ৩০ মুরগি, প্রায় ৬০ কেজি আলু ও প্রায় ১০০ কেজি চাল।

আজকের জনপ্রিয়:
>> আয়ু কমে যাওয়ার ৭ কারণ
>> সন্তানদের যে আমলের অভ্যাস করানো জরুরি
>> ছেলেদের যে বিষয়গুলো মেয়েরা সবার আগে খেয়াল করে


Share:





জুমবাংলানিউজ/এসআই