স্পোর্টস ডেস্ক : ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা ও পাকিস্তানের ক্রিকাটার শোয়েব মালিকের ডিভোর্সের খবর এখন উড়ে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাদের দুজনকে নিয়ে এখন চর্চা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী।

যদিও তারা ডিভোর্সের বিষয়ে এখনো মুখ খোলেননি। সানিয়া মির্জাও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু পোস্ট করেন সম্প্রতি, যা দেখে তাঁদের বিচ্ছেদ হওয়ার বিষয়টি সবার প্রথম মাথায় আসে।

যেভাবে ৪ মাসে ২৬ কেজি ওজন কমিয়েছেন সানিয়া মির্জা

বর্তমানে গণমাধ্যমে সানিয়া মির্জাকে যেমন আলোচনা চলছে, ঠিক তেমনই কয়েক বছর আগেও তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফ্যাট থেকে ফিট হয়ে তিনি সবার নজর কেড়েছিলেন।

২০১৮ সালে সানিয়া পুত্র সন্তানের মা হন। গর্ভধারণের সময় স্বাভাবিকভাবেই ওজন বেড়ে গিয়েছিলো এই খেলোয়াড়ের। গর্ভধারণের কারণে বেড়ে যাওয়া ওজন পরবর্তী সময়ে কমানো ততটা সহজ বিষয় নয়। তবে সানিয়া মির্জা তার শরীরের অতিরিক্ত ওজন ঝরিয়েছেন তাও আবার স্বাস্থ্যকর উপায়ে।

তার ওজন হয়ে গিয়েছিলো ৮৯ কেজি। তবে বর্তমানে তিনি ফিরে এসেছেন ৬৩ কেজিতে। শরীরের অতিরিক্ত ২৬ কেজি ওজন কমিয়ে তিনি শিরোনামে আসেন। তার এই ফিটনেস অন্যান্য মায়েদের জন্যও অনুকরণীয়।

সন্তান জন্মের পর একজন নতুন মা সব সময় সন্তানের দেখভালে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ওই সময় নিজের জন্য সময় বের করে শরীরের যত্ন নেওয়া সহজ হয় না। তবে সানিয়ার মতো বদ্ধপরিকর হলে সবই সম্ভব। তিনি একাধারে সন্তান ও টেনিস খেলা সবই সামলাচ্ছেন নিজ হাতে।

সানিয়ার ওজন কমানো দেখে অনেকেই তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। নিজের প্রতি যত্নবান হওয়া ও ব্যাপক শৃঙ্খলা অনুসরণ করে, ৩৬ বছর বয়সী এই খেলোয়ার মাত্র ৪ মাসের মধ্যেই ৮৯ থেকে ৬৩ কেজিতে চলে আসেন।

এ বিষয়ে সানিয়া তার ইনস্টাগ্রামে লিখেন,‘৮৯ বনাম ৬৩ কেজি। আমার এই লক্ষ্য অর্জন করতে, সুস্থ ও ফিট হয়ে ফিরে আসতে ৪ মাস সময় লেগেছে।’

অনেকেই ওজন কমাতে না পেরে হাল ছেড়ে দেন। এ বিষয়ে সানিয়া জানান, কয়েকটি মাস দীর্ঘ পথের মতো হয়েছে। ফিটনেস ফিরে পেতে সর্বোচ্চ স্তরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে।

তাই হাল ছেড়ে না দিয়ে নিজেকে বিশ্বাস করুন ও স্বপ্ন পূরণ করুন। অন্য কেউ পারলে আপনি কেন পারবেন না, তা নিজেকে বোঝান।

গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই সানিয়া নিয়মিত যোগব্যায়াম করতেন। সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র ১৫ দিন পর থেকেই শারীরিক কার্যকলাপ শুরু করেন সানিয়া। মা হওয়া মানেই শারীরিক ফিটনেস হারানো এই ভুল ধারণা বদলে দিয়েছেন নিজে ওজন কমিয়ে।

সানিয়া মির্জার ডায়েট চার্ট কেমন?

সানিয়া মির্জা খেলছেন কি না তার উপর নির্ভর করে ডায়েট পরিবর্তন করেন। খেলার সময় তার আরও শক্তির প্রয়োজন হয়, তাই খাবারে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট রাখেন।

একটি ম্যাচের আগে, তিনি কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে মসৃণ পাস্তা খান। টেনিসের জন্য কার্বোহাইড্রেট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ম্যাচ চলাকালীন দৌড়ানোর জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়।

আর টুর্নামেন্ট না থাকলে আবার কার্বোহাইড্রেট খাওয়া কমিয়ে আনেন। তখন প্রোটিন ও ভিটামিনের উপর বেশি মনোযোগ দেন। তিনি সব সময় ক্যালোরির উপর নজর রাখেন। এটি তার প্রোটিন কোটাও পূরণ করে। চ্যাম্পিয়ন যখন তার খাবার হালকা রাখতে চান তখন ডাল ও ভাত খান।

তিনি বেশিরভাগ সময়ই স্বাস্থ্যকর খাবার খান। তবে কখনো সখনো এক টুকরো কেক বা বিরিয়ানিও খান। এই অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়াতে পরের দিন ২০-৩০ মিনিট অতিরিক্ত ওয়ার্কআউট করেন। তার ফিটনেস মন্ত্র হল জাঙ্ক ফুড এড়ানো ও যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক রাখা।

সানিয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তার ওয়ার্কআউট রুটিন খেলার মৌসুমের নির্ভর করে। যখন তিনি অফসিজনে থাকেন, তখন ৪-৪.৫ ঘণ্টা শরীরচর্চা করেন। তার ফিটনেস প্রশিক্ষক বারবার অনুশীলনের একটি নতুন সেট প্রবর্তন করেন।

তিনি একটু ওয়ার্ম-আপ দিয়ে তার প্রশিক্ষণ শুরু করেন। যা অনেকগুলো মূল ব্যায়ামের মিশ্রণ, তারপরে ২০-২৫ মিনিটের দৌড়, শক্তি ও গতির প্রশিক্ষণ নেন। কখনো কখনো তিনি দীর্ঘ লাফ কিংবা ওজন উত্তোলন করেন।

একবার এক প্রেস ইভেন্টে সানিয়া বলেছিলেন,তার বয়স যখন ১২ বছর, তখন থেকেই তিনি দিনে ৬ ঘণ্টা অনুশীলন করতেন, যা এখন ৪-৪.৫ ঘণ্টায় নেমে এসেছে। তিনি নিয়মিত কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করেন

২০১০ সালের এপ্রিলে তিনি পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব মালিককে বিয়ে করেন সানিয়া। এরপর ২০১৮ সালের অক্টোবরে সানিয়া-শোয়েবের ঘর আলো করে আসে পুত্র সন্তান ইজহান মির্জা মালিক।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া/ক্রিডন

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Sabina Sami is a Journalist. He is the Sub-Editor of Zoom Bangla News. He is also a good writer.