৮ বিলিয়ন ডলার বা ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পূর্বাচলে গড়ে তোলা হচ্ছে কেন্দ্রিয় বাণিজ্যিক অঞ্চল

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার বিকল্প হিসাবে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১১৪ একর জায়গার ওপর সেন্ট্রাল বিজনেজ ডিস্ট্রিক্ট (সিবিডি) গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সূত্রে জানা গেছে, সিবিডি নামে বাণিজ্যিক এ বিশাল জনপদে ৪১টি আকাশছোঁয়া ভবন থাকবে যার মধ্যে ৪৬৫ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট ৯৬ তলা আইকনিক লিগ্যাসি টাওয়ার, ৭১ তলাবিশিষ্ট লিবার্টি টাওয়ার এবং ৫২ তলাবিশিষ্ট ল্যাঙ্গুয়েজ টাওয়ার। প্রায় ৩৮ দশমিক ৪৪১ মিলিয়ন (৩৮৪৪ কোটি ১০ লাখ) বর্গফুট ব্যবসায়ের এ ভবনগুলোর কক্ষে থাকার ব্যবস্থাও থাকবে। এছাড়া অন্যান্য ৩৮ আকাশচুম্বী ভবনের মধ্যে প্রতিটির উচ্চতা ৪০ তলা ভবনের সমান হবে। শহরটিতে থাকবে একটি বৃহৎ সম্মেলন কেন্দ্র। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশের সিকদার গ্রুপের প্রতিষ্ঠান পাওয়ার প্যাক এবং জাপানের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান কাজিমার মিলিত কনসোর্টিয়াম এই বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছে। এতে বাংলাদেশ-জাপানের কারিগরি সহায়তা ছাড়াও থাকবে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, ফ্রান্স এবং ভারতের কারিগরি সহায়তা।

সিবিডি’র একাংশে অর্থায়নসহ সার্বিক উন্নয়নে ‘চায়না এনার্জি কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস ও কাজিমা কর্পোরেশন কনসোর্টিয়ামের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বুধবার বেইজিংস্থ চায়না এনার্জির প্রধান কার্যালয়ে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পূর্বাচল নতুন শহরের সিবিডি’র একাংশের অর্থায়নসহ উন্নয়নে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না এনার্জি এন্ড পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’ যুক্ত হয়েছে।

বুধবার বেইজিংস্থ চায়না এনার্জির প্রধান কার্যালয়ে পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস ও কাজিমা কর্পোরেশন কনসোর্টিয়ামের সাথে প্রতিষ্ঠানটির ৩৬০ কোটি ডলারের প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ (ইপিসি) চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশি মূদ্রায় চুক্তিমূল্য ৩০ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই সব চেয়ে বড় অংকের ইপিসি চুক্তি।

পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস ও কাজিমা কর্পোরেশন কনসোর্টিয়ামের পক্ষে পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার এবং চায়না এনার্জি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান ঝাং হংমিং এই ইপিসি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্তমন্ত্রী শম রেজাউল করিম সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেন, সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টের মাধ্যমে ঢাকাকে চিনবে গোটা বিশ্ব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ৪১ এর লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে এ ধরনের প্রকল্পের বিকল্প নেই। সিবিডি থেকেই এশিয়ার বাণিজ্য কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এই বিশেষায়িত ব্যবসায়িক অঞ্চল দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের চেহারা পাল্টে দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ইতোমধ্যে জমির দশভাগ মূল্য নেয়া হয়েছে। ডিজাইন পাশের পর দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে আমরা আশা করি।

পাওয়ার প্যাক-কাজিমা কনসোর্টিয়ামের চীফ অপারেটিং অফিসার ও পরিচালক (অপারেশন) সৈয়দ কামরুল ইসলাম মোহন বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য রাজউকের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২০ সালের মার্চ মাসেই আমরা উন্নয়ন কাজ শুরু করতে পারব।

পাওয়ার প্যাক কর্মকর্তারা জানান, পূর্বাচল সিবিডির খোলা জায়গা থাকবে ৫৭ একর ও অতিরিক্ত সবুজ অঞ্চল হবে ১২ দশমিক ৫০ একর। এছাড়া ২০টি টাওয়ারে অফিস স্পেস থাকবে ১২ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন বর্গফুট এবং ১৫টি টাওয়ারে ৩ হাজার ৮৫৮টি আবাসিক ইউনিট থাকবে। প্রকল্প এলাকায় ৪০ হাজার গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা থাকবে।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পরিচালক উজ্জল মল্লিক বলেন, কেন্দ্রীয় বিজনেস অঞ্চলে এমন সব প্রতিষ্ঠান থাকবে যার মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশকেই চেনা যাবে। বর্তমানে কোন বড় আকারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর বা ব্রাজিলে যেতে হয়। সিবিডির ব্যবসায়িক জনপদটি গড়ে তোলা হবে আইকোনিক হিসেবে। এক সীমানায় পাওয়া যাবে বিশ্বের সব বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গন্তব্য। মূল আইকনিক টাওয়ার প্রাথমিকভাবে ৯৬ তলা সর্বোচ্চ ভবন বলা হলেও এটিকে ১০৮ তলা করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার গাড়ি এই সীমানায় নিরবচ্ছিন্নভাবে চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে। এর আশপাশে অসংখ্য ছোটবড় ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টার নির্মাণসহ বিশ্বেও অসংখ্য ফাইভ স্টার সেভেন স্টার হোটেল নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প পরিচালক বলেন, জমির অর্থ প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে আমরা চুক্তিকারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ শুরু করার অনুমতি দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তবে প্রথমে আইকনিক টাওয়ার ও পরে সকল স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। ডিজাইন পাস করার পর ৪ বছরের মধ্যেই এই আইকনিক টাওয়ার নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

আজকের জনপ্রিয়:
>> আয়ু কমে যাওয়ার ৭ কারণ
>> সন্তানদের যে আমলের অভ্যাস করানো জরুরি
>> ছেলেদের যে বিষয়গুলো মেয়েরা সবার আগে খেয়াল করে


Share:





জুমবাংলানিউজ/এইচএম