
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ‘বন্ধু’ শব্দটি যতই ছোট হোক, এর গভীরতা আর ব্যাপ্তি অনেক বেশি। বন্ধুত্বের কোন সংজ্ঞা হয় না একে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। এরিস্টটলের মতো করে বলতে হয়- বন্ধুত্ব মানে বিশ্বাস, বন্ধুত্ব মানে পরস্পরের মাঝে সহযোগিতা, বন্ধুত্ব মানে বিপদে পাশে থাকা, সুখে-দুঃখে এক থাকা।
বন্ধুর জন্য বন্ধু কত কিছুই না করে। এবার প্রকৃত বন্ধুত্বের প্রমাণ দিলেন ভারতের দেবেন্দ্র নামে এক যুবক। করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দেশজুড়ে। আর তাতেই আক্রান্ত হয়েছেন নয়ডার বাসিন্দা রঞ্জন। তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অক্সিজেনের স্তরটি ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছিল, কিন্তু পরবর্তী অক্সিজেনেরও ব্যবস্থা করা যাচ্ছিল না। অন্যদিকে, চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন রোগীর জীবন বাঁচাতে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতেই হবে।
তার মা-বাবা সম্ভাব্য সব জায়গায় অক্সিজেন খোঁজ করেন। কিন্তু কোথাও না পেয়ে ছেলের বন্ধু দেবেন্দ্রকে বিষয়টি জানান। দেবেন্দ্র এ খবর পেয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ২৪ ঘণ্টায় তিন রাজ্য ঘুরে ১৪০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বন্ধুর জন্য অক্সিজেন নিয়ে আসেন।
এই অক্সিজেন সিলিন্ডার সংগ্রহ করা দেবেন্দ্রর জন্য মোটেও সহজ ছিলো না। তিনি বিভিন্ন স্থানে গেছেন কিন্তু কোথাও অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার পাচ্ছিলেন না। পরে ঝাড়খণ্ডের বালিধা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। দেবেন্দ্র জানান, অক্সিজেনের জন্য তাকে ১০ হাজার ৪০০ রূপি (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২ হাজার টাকা) খরচ করতে হয়েছে।
সোমবার (২৬ এপ্রিল) অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার নিয়ে বন্ধুর কাছে পৌঁছান তিনি। সঠিক সময়ে অক্সিজের সাপোর্ট দেওয়ায় রক্ষা পান বন্ধু রঞ্জন।
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) দেবেন্দ্র টাইমস অব ইন্ডিয়াকে ফোনে বলেন, আমার বন্ধুর অবস্থা এখন স্থিতিশীল। আমি এখনো ওর পাশে আছি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমার বন্ধু সুস্থ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তার পাশে থাকবো।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


