বাংলাদেশে এপ্রিল মাস মানেই শুরু হয় গরমের দাপট। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবছর এপ্রিলজুড়ে তাপমাত্রা আরও বেড়ে চলতে পারে। পাশাপাশি, বঙ্গোপসাগরে একটি বা দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় এবং তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে রাজশাহী, যশোর, নীলফামারী, পাবনা, ঢাকা সহ আরও কয়েকটি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে এবং তা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
Table of Contents
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা ও প্রস্তুতির পরামর্শ
বঙ্গোপসাগরে একাধিক নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এর মধ্যে অন্তত একটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনা একেবারে অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষদের জন্য এটি একটি সতর্ক সংকেত।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র উপকূলে জলোচ্ছ্বাস, তীব্র বাতাস এবং ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তাই উপকূলীয় এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
- ঘূর্ণিঝড় সতর্কবার্তা নিয়মিত শুনুন
- প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানি এবং ওষুধ মজুত রাখুন
- স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন
আরো জানতে পারেন উপকূলবাসীর জন্য পূর্বপ্রস্তুতি সম্পর্কিত প্রতিবেদন থেকে।
তাপপ্রবাহের প্রকৃতি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি
এপ্রিল মাসজুড়ে ২-৪টি মৃদু থেকে মাঝারি এবং ১-২টি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা যখন ৩৬-৩৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকে তখন তাকে মৃদু, ৩৮-৪০ মাঝারি এবং ৪০-৪২ ডিগ্রির বেশি হলে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। ৪২ ডিগ্রির ওপরে গেলে তা হয় অতি তাপপ্রবাহ।
তাপপ্রবাহের প্রভাবে মানুষ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থদের মধ্যে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং ক্লান্তির ঝুঁকি বেশি থাকে। নিচের সতর্কতাগুলো অনুসরণ করলে ঝুঁকি অনেকটা হ্রাস পায়:
- বেলা ১১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত রোদে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন
- প্রচুর পানি পান করুন ও হালকা পোশাক পরুন
- গরমে বাইরে কাজ করলে নিয়মিত বিশ্রাম নিন
আরও জানতে পড়ুন: তাপপ্রবাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়
বৃষ্টি ও কালবৈশাখী: স্বস্তির বার্তা নাকি নতুন ঝুঁকি?
৫ এপ্রিলের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি এবং ৬ এপ্রিল ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টিপাত তাপপ্রবাহ থেকে সাময়িক মুক্তি দিতে পারে, তবে এর সাথে কালবৈশাখী ঝড়ও হতে পারে যা নতুন করে বিপদ সৃষ্টি করতে পারে। কালবৈশাখীর সঙ্গে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই যেসব এলাকায় কৃষিকাজ চলছে সেসব অঞ্চলে কৃষকদের ফসল বাঁচাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত হাওয়ার কারণে গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
FAQs: সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: ঘূর্ণিঝড় কখন আসতে পারে?
উত্তর: আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি ঘূর্ণিঝড় দেখা দিতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট সময় জানার জন্য আবহাওয়ার নিয়মিত আপডেট দেখা উচিত।
প্রশ্ন: তাপপ্রবাহ কতদিন স্থায়ী হতে পারে?
উত্তর: তাপপ্রবাহ এপ্রিল মাসজুড়ে একাধিক দফায় আসতে পারে এবং কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। বৃষ্টি শুরু হলে তাপপ্রবাহ কমে আসার সম্ভাবনা থাকে।
প্রশ্ন: ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহ মোকাবেলায় করণীয় কী?
উত্তর: আগাম সতর্কতা গ্রহণ, নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি ও খাদ্য মজুদ রাখা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ এবং নিয়মিত আবহাওয়া বার্তা শোনা গুরুত্বপূর্ণ।
এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের আবহাওয়া চরমভাবাপন্ন হতে চলেছে। ঘূর্ণিঝড় এবং তাপপ্রবাহের দ্বৈত হুমকি আমাদের স্বাস্থ্য ও সম্পদ দুইয়ের জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে। তবে সচেতনতা এবং আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।