যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনায় ছাড় দাও অথবা প্রাণঘাতী হামলার মুখোমুখি হও, যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুঁশিয়ারির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, কেউ আমাদের আত্মসমর্পণ করাতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের বলপ্রয়োগে বাধ্য করা যায় না।

বুধবার (০৬ মে) সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং সেই আলাপে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সামরিক হুমকি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে যেকোনো ধরনের সংলাপের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু কখনো বলপ্রয়োগের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
তিনি আরও বলেন, যদি তারা আমাদের সঙ্গে যুক্তি দিয়ে কথা বলে, তবে সংলাপ সম্ভব; কিন্তু হুমকি ও ভয়ভীতির ভাষা কোনো ফল দেবে না। সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করে, অন্যদিকে আবার আশা করে যে ইসলামী প্রজাতন্ত্র আলোচনার টেবিলে আসবে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের একতরফা দাবি মেনে নেবে। এমন সমীকরণ অসম্ভব।
পেজেশকিয়ান ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি পুরোপুরি ত্যাগ করার মার্কিন দাবি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করে জোর দিয়ে বলেন, আমাদের নিজেদেরকে এই সক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। এই ক্ষেত্রে ইরানের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি বছরের পর বছর ধরে জাতীয় প্রচেষ্টার ফল।
ফোনালাপে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরানের বর্তমান শক্তি কেবল ইসলামী প্রজাতন্ত্রের একার নয়, বরং তা শিয়া অনুসারীসহ সকল মুসলমানের জন্য সহায়ক।
তিনি আরও বলেন, ইরানের কাছ থেকে এই ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া আমরা কখনোই মেনে নেব না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইয়ারকের বিরুদ্ধে দায়েশের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যখন রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞের অভিযান শুরু করে, তখন বাগদাদকে সেই গোষ্ঠীকে নির্মূল করতে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নির্ণায়ক অবদানই সাহায্য করেছিল।
তার মতে, ইরাকের ইরানের সমর্থন প্রয়োজন। কারণ ইরানের শক্তিই ইরাকের শক্তি এবং ইরানের দুর্বলতাও ইরাকের দুর্বলতা।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে আল-জাইদি অঙ্গীকার করেন, আমি আমাদের দুই দেশের মধ্যকার এক অভিন্ন আত্মার দুটি সত্তার সম্পর্ককে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এক অসাধারণ পর্যায়ে উন্নীত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব।
আল-জাইদি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার মতপার্থক্য কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন যে, ওয়াশিংটন যেমন ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করতে সক্ষম নয়, তেমনি সংঘাতও কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না।
সূত্র : আল-জাজিরা ও প্রেস টিভি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


