ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক অভিযানের পর কলম্বিয়ার বিরুদ্ধেও একই ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার (০৪ জানুয়ারি) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়া “একজন অসুস্থ মানুষের দ্বারা পরিচালিত”—ইঙ্গিত করে দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর দিকে। তিনি পেত্রোকে ‘মাদক নেতা’ বলে আখ্যা দেন এবং জানান, যাকে তিনি গত বছর নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছিলেন, তাকেও ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, “কলম্বিয়া খুবই অসুস্থ একজন অসুস্থ মানুষের দ্বারা পরিচালিত, যে কোকেন তৈরি করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করে। আর আমি আপনাদের বলে দিচ্ছি, সে খুব বেশি দিন এটা করতে পারবে না।”
কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালাবে কি না—এই প্রশ্নে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “আমার কাছে এটা ভালোই শোনাচ্ছে।”
এ বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ধারাবাহিক পোস্টে তিনি ট্রাম্পকে “কুৎসা রটানো বন্ধ করতে” আহ্বান জানান এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন। নইলে তারা “চাকর ও দাসের মতো আচরণের শিকার হবে” বলে সতর্ক করেন পেত্রো।
এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এসেছে ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের জেরে তৈরি হওয়া তীব্র ক্ষোভের মধ্যেই। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, মাদক পাচারের অভিযোগে মাদুরোকে বিচারের মুখোমুখি করতে এই অভিযান প্রয়োজন ছিল। তবে কারাকাস এই ব্যাখ্যাকে সরকার পরিবর্তনের অজুহাত হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অভিযানে সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। সব অভিযোগ অস্বীকার করা মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ জোরপূর্বক অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই অভিযানের বিরুদ্ধে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো নিন্দা জানিয়েছে। চীন এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, উরুগুয়ে ও স্পেন যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য “চরমভাবে বিপজ্জনক নজির” স্থাপন করেছে।
ট্রাম্প ১৯শ শতকের মনরো নীতির দোহাই দিয়ে অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। এই নীতিতে লাতিন আমেরিকাকে ওয়াশিংটনের প্রভাবক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ভেনেজুয়েলার “নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, শনিবারের সামরিক হস্তক্ষেপ সরকার পরিবর্তন বা সম্পদ দখলের জন্য নয়; বরং “পৃথিবীতে শান্তি” নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, বিশেষ করে পশ্চিম গোলার্ধে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, কারাকাস “ভাল আচরণ না করলে” যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা চালাতে পারে।
কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি ট্রাম্প অঞ্চলটির অন্যান্য দেশ নিয়েও কড়া বক্তব্য বাড়িয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার তেল আয়ের ক্ষতির কারণে কিউবা “পতনের দ্বারপ্রান্তে” রয়েছে। একই সঙ্গে মেক্সিকোর বিরুদ্ধেও সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, “মাদক মেক্সিকো হয়ে ঢলে পড়ছে, তাই তাদের নিজেদের ঠিক করতে হবে—নচেৎ আমাদের কিছু একটা করতেই হবে।”
সূত্র: আরটি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


