আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া শত শত বিদেশি শিক্ষার্থীকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে শিক্ষার্থীর ই-মেইল পাঠিয়ে স্টুডেন্ট ভিসা (এফ-১) বাতিল করার কথা জানিয়েছে। মূলত শিক্ষার্থীদের ফিলিস্তিনপন্থি ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভিজমে অংশ নেওয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার বা লাইক দেওয়ার প্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমটিকে ইমিগ্রেশন-সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা শিক্ষার্থীদের কাছে মেইল পাঠানোর বিষয় নিশ্চিত করেছেন। কিছু ভারতীয় শিক্ষার্থীও এর ভুক্তভোগী হতে পারে। কেননা কিছু ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট শেয়ার বা লাইক করার কারণে অনেকেরই ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
একজন ইমিগ্রেশন আইনজীবীর মতে, কেবল ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভিজমে শারীরিকভাবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরাই নয়, যারা অনলাইনে জড়িত ছিল তাদেরও এখন লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সরকারি সংস্থা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যালোচনার মাধ্যমে। কনস্যুলার কর্মকর্তারাও এগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলস্বরূপ একাডেমিক স্টাডি, ভোকেশনাল স্টাডি, অথবা এক্সচেঞ্জ ভিসার জন্য নতুন আবেদনকারীরাও তদন্তের আওতায় পড়েন এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হতে পারে।
সর্বশেষ ওপেন ডোরস রিপোর্টের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ১.১ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে ৩ লাখ ৩১ হাজার ভারতীয় ছিল।
অ্যাক্সিওস পোর্টালের প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামাস বা অন্যান্য কিছু সংগঠনকে সমর্থন করার সন্দেহে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করার জন্য ‘ক্যাচ অ্যান্ড রিভোক’ নামে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত উদ্যোগ শুরু করেছেন। মাত্র তিন সপ্তাহে এই উদ্যোগের অধীনে ৩০০ জনেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১.৫ মিলিয়ন শিক্ষার্থী ভিসাধারী রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পাঠানো ই-মেইলে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো ভিসা অফিস আপনাকে জানাচ্ছে, আপনার ভিসা ইস্যু হওয়ার পরে অতিরিক্ত (অবস্থানের) তথ্য পাওয়া গেছে। ফলস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন অনুসারে, আপনার মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে শিক্ষার্থী ভিসা সংশোধিতভাবে বাতিল করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো ভিসা অফিস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্টকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছে। তারা আপনার স্কুল কর্মকর্তাকে আপনার ভিসা বাতিলের বিষয়ে অবহিত করতে পারে। আইনসম্মত অভিবাসন অবস্থা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ফলে জরিমানা, আটক এবং অথবা নির্বাসন হতে পারে। এটি আপনাকে ভবিষ্যতের মার্কিন ভিসার জন্য অযোগ্যও করে তুলতে পারে।
মেইলে আরও বলা হয়, অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন যে, নির্বাসন এমন সময়ে ঘটতে পারে, যখন নির্বাসনপ্রাপ্ত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে সম্পত্তি সুরক্ষিত করতে বা সম্পর্ক স্থাপন করতেও পারবেন না। নির্বাসিত ব্যক্তিদের তাদের দেশ ছাড়া অন্য দেশে পাঠানো হতে পারে। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে, যাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে তারা ‘CBP’ হোম অ্যাপ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করতে চাইতে পারেন।
মেইলে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার সঙ্গেসঙ্গে আপনাকে অবশ্যই আপনার পাসপোর্টটি মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে উপস্থাপন করতে হবে, যারা আপনার ভিসা জারি করেছে। এতে আপনার ভিসা সরাসরি বাতিল করা যাবে। আপনার ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়ার পরে এটি ব্যবহার করার চেষ্টা করা উচিত নয়। আপনি যদি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই অন্য একটি মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে এবং সেই সময়েই আপনার ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।
ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা বলছেন, ‘স্ব-নির্বাসন’ সংশ্লিষ্ট ই-মেলের এই ঢেউ মার্কো রুবিও’র ২৫ মার্চের একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকা অনুসরণ করে করা হয়েছে। এর আওতায় বর্তমান বিদেশি শিক্ষার্থী এবং নতুন ভিসা আবেদনকারী উভয়েরই সোশ্যাল মিডিয়া পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক হয়েছে।
সাতক্ষীরায় বিস্তর এলাকা প্লাবিত, বেড়িবাঁধ মেরামতে কাজ করছে সেনাবাহিনী
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যদি সোশ্যাল মিডিয়া পর্যালোচনায় সম্ভাব্য অবমাননাকর তথ্য পাওয়া যায় এবং এই তথ্য ইঙ্গিত করে যে, আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য নন, তাহলে জালিয়াতি প্রতিরোধ ইউনিটগুলোকে ভিসার অযোগ্যতার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক পরিমাণে সোশ্যাল মিডিয়া অনুসন্ধানের তথ্য নিতে হবে। যাতে আবেদনকারী পরবর্তীতে তথ্য পরিবর্তন করলেও তার আগের রেকর্ড সংরক্ষণ করা যায়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।