বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। এই উত্তেজনার পটভূমিতে অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো উপসাগরীয় দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়া। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প ঘাঁটি হিসেবে দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ও তার কারণ
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েত ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানে হামলার জন্য তারা নিজেদের আকাশসীমা, বিমানবন্দর কিংবা জ্বালানি সহযোগিতা দেবে না। এমনকি উদ্ধার অভিযানের ক্ষেত্রেও মার্কিন যুদ্ধবিমান তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।
Table of Contents
এই নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ হলো এই দেশগুলো ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না। এমনকি একাধিক উপসাগরীয় দেশের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্পষ্ট করেছেন যে, তারা এই উত্তেজনার অংশ হতে আগ্রহী নন। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় একটি কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দিয়েগো গার্সিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প ঘাঁটি
ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়া আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহার হয়েছে। বর্তমানে সেখানে বি-২ বোমারু বিমান মোতায়েন করে ইরানে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। ৫৩০০ কিমি দূরত্বে অবস্থান করেও এই বিমানগুলো ইরানে হামলা চালাতে সক্ষম, কারণ একেকটি বিমান প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড বিস্ফোরক বহনে সক্ষম এবং একবার ট্যাংক ভর্তি করে প্রায় ১১ হাজার কিমি পর্যন্ত উড়তে পারে।
বিষয়টি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য পড়ুন: বি-২ বোমারু বিমান নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল ও সামরিক পরিকল্পনা
ইরানকে পারমাণবিক আলোচনায় বাধ্য করতেই যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সামরিক চাপ প্রয়োগ করছে। এর অংশ হিসেবে ইয়েমেনে হুতিদের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ধারণা করেছিল, উপসাগরীয় দেশগুলোও এই ধরনের অভিযানে সমর্থন দেবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং এসব দেশ নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে এদিকে ট্রাম্পের হুমকি ইরানকে আরও জেদি করে তুলছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও হুমকি
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যদি আক্রমণ হয়, তবে শক্তিশালী প্রতিশোধ নেওয়া হবে। ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডস কমান্ডার আমির আলি হাজিজাদেহ আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কাচের ঘরে অবস্থান করছে—অতএব তাদের উচিত হবে ইটপাটকেল ছোড়া বন্ধ রাখা।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাব্য যুদ্ধের পরিণতি
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, লেবাননে ইসরাইলি হামলা এবং গাজায় গণহত্যার পাশাপাশি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও যুদ্ধজাহাজ ও বি-২ বোমারু মোতায়েন করেছে। যদিও পেন্টাগন নির্দিষ্ট কোন বিমানের তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে ধারণা করা হচ্ছে বেশ কিছু বি-২ এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান ইতোমধ্যে অঞ্চলে উপস্থিত।
এমন পরিস্থিতিতে যে কোনো সময় বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হতে পারে যা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
FAQs: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
- প্রশ্ন: উপসাগরীয় দেশগুলো কেন যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না?
উত্তর: তারা ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না এবং নিজেদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। - প্রশ্ন: দিয়েগো গার্সিয়া কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: এটি ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি। - প্রশ্ন: বি-২ বোমারু বিমান কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এই বিমান অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন, এটি দীর্ঘপথ উড়ে বিপুল পরিমাণ বোমা বহনে সক্ষম, যা গোপন সামরিক অভিযানে অত্যন্ত কার্যকর।
উত্তেজনার ছায়ায় বিশ্ব
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, পরিস্থিতি যেকোনো সময় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রকে বিকল্প পরিকল্পনায় বাধ্য করছে এবং দিয়েগো গার্সিয়া যেন নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া বিশ্ব রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।