ছবি সংগৃহীত
Advertisement

জুমবাংলা ডেস্ক : সুযোগ থাকলেও ঢাকায় অধিকাংশ শপিংমল, দোকান-পাট খোলেনি৷ তারপরও যারা খুলেছেন তারা ক্রেতা পাচ্ছেন না৷ ঢাকার বাইরে ক্রেতা একটু বেশি হলেও সামাজিক দূরত্ব না মানায় কয়েকটি জেলায় তা আবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷

ঢাকায় মধ্যবিত্তের ঈদ শপিং-এর সবচেয়ে জমজমাট মার্কেট হলো বসুন্ধরা এবং যমুনা শপিং মল৷ এর কোনোটিই ১০মে থেকে খুলেনি৷ তারা আগেই না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ খুলেনি নিউমার্কেটসহ, গাউসিয়াসহ ক্রেতাদের পছন্দের অনেক মার্কেট৷ তবে কিছু কিছু মার্কেট খুলেছে৷ তার মধ্যে একটি গুলশান এক নাম্বার ডিএনসিসি মার্কেট৷ কিন্তু খুললে কি হবে সেখানে তেমন ক্রেতা মিলছেনা৷ এই মার্কেটে পোশাক, কসমেটিকস, জুতা ও ফাস্টফুডসহ নানা পণ্যের দোকান আছে মোট ২৪২টি৷ সবগুলোই রবিবার থেকে খুলেছে৷

খাবার দোকানে কিছু ক্রেতা আসলেও অন্যসব দোকানে তেমন ক্রেতা আসেনা বললেই চলে বলে জানান মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন৷ তার নিজেরও এখানে একটি পোশাকের দোকান আছে৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রতিদিন কোনো দোকানেই এখন আর হাজার ১২শ’ টাকার বেশি বিক্রি হয় না৷ এটা বললেও মানুষ আমাদের খারাপ ভাববে৷ দুই-একজন করে ক্রেতা আসে মাঝে মধ্যে৷ তবুও কি আর করা তারপরও তো দোকান খুলতে হবে৷ কর্মচারীদের বেতন দিতে হবে৷”

মার্কেটের সামনে ব্যানার টানিয়ে দেয়া হয়েছে, ‘করোনায় অসাবধানতায় মৃত্যু হতে পারে’৷ হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে৷ ক্রেতারা যারা আসেন তাদের মাস্ক পরে আসতে বলা হয়৷ জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘‘তারপরও অনেকেই মাস্ক পরেন না৷”

ঢাকার এলিফেন্ট রোড, গাউসিয়া, চন্দ্রিমা এলাকায় পুরো মার্কেট না খুললেও কোথাও কোথাও মার্কেটের নিচ তলার কিছু দোকান পাট খুলেছে৷ বিশেষ করে ঈদের জামা-কাপড় ও জুতার দোকান৷ আর ফুটপাতের দোকানগুলোও অল্প বিস্তর বসেছে৷ কিন্তু এইসব দোকানে যারা আসছেন তারা তেমন সামাজিক দূরত্ব মানছেন না৷ সবাই মাস্কও পরছেন না৷ তাদের কয়েক জনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি এড়িয়ে যান৷ তারা বলছেন, ‘‘যতদূর সম্ভব চেষ্টা করছি৷ আর ঈদে তো কিছু কেনাকাটা করতে হবে! না করে উপায় নেই৷ বাসায় ছেলে মেয়ে আছে তাদের নতুন জামা-কাপড় না দিয়ে উপায় নেই৷ তাই বিপদ জেনেও সতর্ক হয়ে বের হচ্ছি৷”

এই এলাকার দোকানগুলোতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার আছে৷ তবে ক্রেতারা না চাইলে তারা বের করেন না৷ আর সেলসম্যানরা কেউ কেউ মাস্ক পরলেও সবাই না৷ তবে তাদের সবার মধ্যে হতাশা৷ দোকান খুলেও বিক্রি হচ্ছে না৷ ক্রেতা আসছে না৷ তাহলে এত ঝুঁকি নিয়ে দোকান খুলে কী লাভ?

সায়েন্স ল্যাররেটরির মোড়ে পাঞ্জারি দোকান ‘রেশম ঘর’৷ রেশম ঘরসহ আরো কয়েকটি পাঞ্জাবির দোকান খুলেছে এখানে৷ রেশম ঘরের মালিক মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘‘গত বছরের এই সময় খারাপ দিনেও দুই লাখ টাকা বিক্রি হতো৷ আর এখন প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ হাজার টাকার পাঞ্জাবি৷ তারপরও মন্দের ভালো যদি ঈদের আগে ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন দিতে পারি৷ করোনা ছাড়াও লকডাউনের কারণে ঢাকার প্রচুর লোক এখন ঢাকার বাইরে আটকে আছেন৷”

নূর ম্যানশনের ‘রাফি ফ্যাশন’-এর মালিক আব্দুর রহমান রাজু বলেন, ‘‘এবার পোশাকে আমরা সামান্যই ব্যবসা করছি৷ দোকানে জমিয়ে রেখে তো লাভ নাই৷ কিন্তু ক্রেতা তেমন নেই৷ গত বছর এই সময়ে ভিড়ের কারণে ক্রেতারা ঢুকতে পারতেন না৷ আর এখন ক্রেতা খোঁজার মত অবস্থা৷”

ওই এলকায় কয়েকটি শাড়ির দোকানও খুলেছে৷ খুলেছে জুতার দোকান৷ তবে ক্রেতা খুবই কম৷

আড়ং এবং বাটার আউটলেটগুলোতে বিক্রি মোটামুটি৷ সেখানে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক নিরাপত্তাকে বেশ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে৷ আড়ং প্রি অর্ডার সেলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে৷ তারা আগে থেকেই তাদের আউটলেটে কেনাকাটার জন্য অনলাইনে টাইম শ্লট বরাদ্দ দিচ্ছে৷ ক্রেতারা সেই সময় অনুযায়ি শপিং করতে পারছেন৷

ঢাকায় ইফতার বাজারের যে সাধারণ দৃশ্য তা আর নেই৷ নিউ মার্কেট এলাকায় রাস্তার পাশে কিছু দোকানে ইফতার বিক্রি হয়৷ সেখানে যারা ইফতার বিক্রি করেন তারা স্বাস্থ্য বিধি তেমন মানেন না৷ তবে বেইলি রোডের ইফতারের দোকান ও রেস্টুরেন্টগুলো খুলেছে৷ সেখানে ইফতারি বিক্রি গত বছরের মত না হলেও ভালো৷ এখানকার থার্টি থ্রি রেস্টুরেন্টের মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘‘প্রথম দিকে আমরা শুধু ইফতারি পার্সেল দিতাম৷ এখন এখানে বসে ইফতার করার ব্যবস্থাও রেখেছি৷ তবে অধিকাংশই আর আগের মত রেস্টুরেন্টে বসে ইফতার করেন না৷ বাসায় নিয়ে যান৷ গত বছরের তুলনায় বিক্রি ৫০ ভাগ কমে গেছে৷”

“ঢাকায় সামাজিক দূরত্ব কতদূর?”

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘‘ঈদকে সামনে সারাদেশে সর্বোচ্চ ১৫ ভাগ শপিংমল ও দোকান-পাট খুলেছে৷ আর যারা খুলেছে তাদেরও বিক্রি তেমন নাই বললইে চলে৷ আগে এই সময়ে ঈদের বাজারে যাদের বিক্রি ছিলো ১৫-২০ লাখ টাকা প্রতিদিন, তাদের বিক্রি পাঁচ-ছয় হাজার টাকার বেশি না৷ যাদের দোকান না খুললে ভাত হবেনা তারা খুলেছেন৷ আমর আসলে মে মাসের পরে দেখবো সব দোকান-পাট খুলে দেয়া যায় কি-না৷

‘‘এই পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িরা বিপাকে আছেন৷ তাদের জন্য ঋণ প্রণোদনার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা পাওয়া কঠিন হবে৷ কারণ ঋণ দেয়া হবে ব্যাংক-ক্লায়েন্ট সম্পর্কের ভিত্তিতে৷ আসলে এই ধরনের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যবসা করেন না৷ তাদের ব্যাংকের সাথে সম্পর্ক নেই৷ আরেকটি সমস্যা হলো যাদের ব্যাংক ঋণ আছে তারা ওই ঋণের সর্বোচ্চ ৩০ ভাগ প্রণোদনা ঋণ পাবেন৷”

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসেবে দেশে শপিংমল আর দোকান আছে ৩০ লাখ৷ আর শুধু শপিংমল আছে ২৫ হাজার৷ ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ঈদকে সামনে রেখে ১০ মে থেকে দোকানপাট অনেক বেশি খুলেছে৷ কোথাও কোথাও ঈদের বাজারের চিত্রই দেখা যাচ্ছে৷ সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই৷ তাই মানিকগঞ্জসহ আরো কয়েকটি জেলায় খোলার পর ফের দোকান-পাট বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন৷ সূত্র : ডয়েচে ভেলে

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Sabina Sami is a Journalist. He is the Sub-Editor of Zoom Bangla News. He is also a good writer.