জুমবাংলা ডেস্ক : পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিনাবাড়ী ইউনিয়নে ব্রিটিশ রেকর্ডিয় একটি রাস্তায় সেতুর অভাবে দুর্ভোগে পড়েছে উভয় পাশের প্রায় ১৫টি গ্রামের বাসিন্দা। দেড় কিলোমিটার রাস্তাটি দিয়ে শুকনো মৌসুমে যাতায়াত করতে পারলেও, বর্ষা মৌসুমে ঘুরে যেতে হচ্ছে প্রায় ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দফতরে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে গরিনাবাড়ি ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া এলাকা গিয়ে দেখা মিলে এমন চিত্রের। রাস্তার মাঝে সেতু না থাকায় খাল দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে দুর্ভোগে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, প্রায় দেড় কিলোমিটার এই কাঁচা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন উভয় পাশের বাসিন্দা ছাড়াও কয়েক হাজার মানুষ। অভিযোগ আছে, একাধিকবার অবগত করেও মোল্লাপাড়া থেকে ডাঙ্গাবাড়ি যাওয়ার এ রাস্তাটি কোনো দিন সংস্কার হয়নি। জেলা শহরে যাতায়াতে প্রায় তিন থেকে পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হতো। রাস্তাটির জন্য ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন দফতরে বারবার ধরনা দিয়ে সাড়া না পাওয়ায় সম্প্রতি স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা ভরাটসহ প্রশস্ত করেছেন স্থানীয়রা।
তবে এতে কিছুটা দুর্ভোগ লাঘব হলেও এখনও যাতায়াতে কষ্ট পোহাচ্ছেন তারা। এখন শুকনো মৌসুমে কোনো মতে কষ্ট নিয়ে পারাপার হতে পারলেও সেতুর অভাবে বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগের শঙ্কায় তারা। তাই একটি সেতুর দাবি বাসিন্দাদের।
মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাহবুব ও সেলিম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দফতরে ঘুরে কোনো কাজ না হওয়ায় নিজেরাই ফসলি জমি প্রশস্ত করে রাস্তাটি সংস্কার করেছি। কারণ এ রাস্তাটা আমাদের খুব প্রয়োজন। দুপাশের অনেক গ্রামের মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। সড়কের পূর্ব অংশে রয়েছে একটি গোরস্তান। পশ্চিমের কয়েকটি গ্রামের মানুষ কেউ মারা গেলে এই গোরস্তানেই কবর দেয়। কিন্তু রাস্তার সমস্যার কারণে মরদেহ নিয়ে যেতে হলে বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়।’
একই গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সলিমুল্লাহ বলেন, ‘এলাকাবাসীর মিলে নতুন করে রাস্তা তৈরি করেছি। এখন প্রয়োজন একটি সেতুর। জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। ইউএনও ও পিআইও আমাদের রাস্তাটি দেখে গেছেন। সবাই বলেছেন এখানে একটি সেতু বা কালভার্টের প্রয়োজন। তবে কতদিনে এখানে সেতু বা কার্লভার্ট নির্মাণ করা হবে, এটা কেউ নিশ্চিত করে বলেননি।’
গরিনাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দীপু বলেন, ‘সেখানে সড়ক বানাতে আমিও তাদের উৎসাহ দিয়ে সাধ্যমতো তাদের সঙ্গে শরিক হওয়ার চেষ্টা করেছি। রাস্তা ও সেতুর বিষয়টি আমি উপজেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। বর্ষায় যেন নতুন তৈরি করা রাস্তাটি ভেঙে না যায় সে কারণে এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় সড়কের উত্তর পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি।’
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘ওই সড়ক নির্মাণের বিষয়ে এর আগে কেউ তেমনভাবে জানায়নি। গ্রামবাসী নিজেরা মিলে রাতে মাটি কেটে এমন সড়ক নির্মাণ করায় তাদের সাধুবাদ জানাই। বিষয়টি জেনে এরইমধ্যে ওই সড়ক পরিদর্শন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে এ রাস্তাটি দিয়ে উভয় পাশের প্রায় ১৫টির অধিক গ্রামবাসীর যাতায়াত।’
‘মদের বোতল’ হাতে বৈষম্যবিরোধী নেতা-নেত্রীর ভিডিও, সদস্যপদ স্থগিত
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।