জুমবাংলা ডেস্ক : চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ে এসে বেড়েছে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি। সঙ্গে ক্রমেই বাড়ছে তাপমাত্রার তেজ। এপ্রিলকে বলা হয় সবচেয়ে উষ্ণতম মাস। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম বছর ছিল ২০২৪ সাল। গত বছর এপ্রিলে তাপমাত্রা ছিল ৭৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়, এপ্রিলের শুরুর দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ। গত মঙ্গলবার মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে ১১ জেলায়। বুধবারও রাজশাহী বিভাগসহ দিনাজপুর, সৈয়দপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে।
তাপপ্রবাহ নিয়ে শুরু হওয়া এপ্রিলজুড়ে কেবল মৃদু নয়, মাঝারি ও তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে চলারও আভাস এসেছে। সেই সঙ্গে নিম্নচাপ অথবা ঘূর্ণিঝড় এবং কালবৈশাখীর শঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এপ্রিল মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এমন আভাস দিয়েছে অধিদপ্তর। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহের শেষ দিন পর্যন্ত গরমের তেজ থাকবে। এরপর আগামী সপ্তাহে বৃষ্টি ঝরার পর চলমান তাপপ্রবাহ কমে আসবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার ( ০৩ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। আজ পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়বে। এরপর ৫ এপ্রিল কোথাও কোথাও বৃষ্টি হতে পারে এবং ৬ এপ্রিল দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ঝড়বৃষ্টি থাকতে পারে। বৃষ্টির পর তাপপ্রবাহ কমে আসবে। এরপর আবার বাড়বে তাপমাত্রা। এ মাসে দেশে ২-৪টি মৃদু মাঝারি এবং ১-২টি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া এ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। এপ্রিলের মাঝামাঝি একটি নিম্নচাপের আশঙ্কা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এদিকে ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরসংলগ্ন এলাকা এবং এর কাছাকাছি উজানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে । তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতে হাওর অঞ্চলের নদ-নদীর পানি বেড়ে যেতে পারে। তবে এতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে কিনা, তা এখনও বলা যাচ্ছে না।
গতবছরের তুলনায় এবার এপ্রিল ও মে মাসে কালবৈশাখীর প্রবণতা বেশি বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা বলেন, গত বছর এপ্রিল ও মে মাসে এক অস্বাভাবিক ও টানা তাপপ্রবাহের কারণে কালবৈশাখীর সংখ্যা ছিল একেবারেই কম। সাধারণত এপ্রিলে ৯ দিন এবং মে মাসে ১৩ দিন কালবৈশাখী হয়। কিন্তু গত বছর এপ্রিলে মাত্র দুই এবং মে মাসে চারটি কালবৈশাখী হয়েছিল। তবে এবার এপ্রিল ও মে মাসে মেঘ সৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা বেশি থাকতে পারে। কালবৈশাখীর সংখ্যাও বাড়তে পারে। আর তাতে গত বছর যেভাবে একটানা দীর্ঘ সময় ধরে তাপপ্রবাহ চলেছে, তা নাও থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, গত কয়েক বছর ধরে তাপমাত্রা আগের বছরগুলোর তুলনায় কিছুটা বেশি অনুভূত হচ্ছে। এর প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।