বিশেষ প্রতিনিধি: দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে সন্ধ্যার পর সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় বখাটে ও মাদকসেবীদের উৎপাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, কিছু অসাধু যুবকের কারণে সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী পর্যটকদের অশালীন মন্তব্য, উত্যক্ত করা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় এমন একটি ঘটনার পর পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কয়েকজন যুবক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সৈকতে এসে পর্যটকদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। একপর্যায়ে এক পর্যটক প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
রাজধানীর উত্তরা থেকে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটক মো. ইসমাইল বলেন, “আমরা পরিবার নিয়ে সৈকতে ঘুরছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন যুবক এসে অশোভন আচরণ শুরু করে। একজন প্রতিবাদ করতেই তাঁকে মারধর করা হয়। এতে আশপাশের পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ ও পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে কক্সবাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক আসছেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর সৈকতের কিছু এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব দেখা যায়। এ সুযোগে বখাটে ও মাদকসেবীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে।
সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দিনের বেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি চোখে পড়লেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক এলাকায় টহল কমে যায়। তখন কিছু অসাধু যুবক পর্যটকদের হয়রানি করে। এতে কক্সবাজারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
পর্যটকদের অভিযোগ, সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সন্ধ্যার পর ছিনতাই, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া, নারীদের উত্যক্ত করা এবং নেশাগ্রস্তদের বেপরোয়া আচরণের ঘটনা মাঝেমধ্যে ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিকার পাওয়া যায় না।
স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প টিকিয়ে রাখতে নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় পর্যটকদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর।
তাঁরা সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টুরিস্ট পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বৃদ্ধি, সিসিটিভি নজরদারি সম্প্রসারণ এবং মাদকসেবী ও বখাটেদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ ৩০০ ফিট এলাকা থেকে যুবলীগের এক নেতা আটক
এ বিষয়ে টুরিস্ট পুলিশের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



