হাসিন আরমান: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ও সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারাল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর উদ্যোগে “কমিউনিটি গাইড ফর ফ্যাক্ট-চেকিং অ্যান্ড নিউজ ভেরিফিকেশন প্রসেস” নিউজ-ভেরিফিকেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

গত ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ( বৃহস্পতিবার) সকাল ১১ টার দিকে বিভাগের শ্রেণি কক্ষে আয়োজন করা হয়।
সেশনের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান। পরবর্তীতে এই ওয়ার্কশপে “মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্স ইন পলিটিক্স” এই বিষয়ে আলোকপাত করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মশিউর রহমান । সেশনটির একটি বিশেষ অংশ পরিচালনা করেন সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজের গবেষণা সমন্বয়কারী জুলকার নাঈন।

এই কমিউনিটি গাইডটির উদ্দেশ্য ছিলো ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে, স্থানীয় কমিউনিটি স্তরে আলোচনা ও সমালোচনামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্য ও সংবাদ যাচাই করার সক্ষমতা গঠন করা। এছাড়া সেশনটির মধ্যে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে কমিউনিটি লেভেলে ফ্যাক্ট-চেকিং কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে—তার ওপর সমন্বিত আলোচনা পরিচালিত হয়।
এতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের ২৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীরা ওয়ার্কশপে অংশ নিয়ে প্রস্তাবিত কমিউনিটি গাইডটি যাচাই-ভ্যালিডেট করে তাদের মতামত উপস্থাপন করেন এবং নিজেদের জন্য নিজস্ব ফ্যাক্ট-চেকিং কমিউনিটি গাইড তৈরি করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

কর্মশালা উদ্বোধনের সময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আজকের কর্মশালায় সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানাই।ফ্যাক্ট-চেকিং এখন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের নয়, স্থানীয় কমিউনিটি থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের যৌথ দায়িত্ব। এই কমিউনিটি গাইড স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য যাচাই এবং ভুলকে চিহ্নিত করার শক্তি যোগাবে — যা আসন্ন নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখে আমি অত্যন্ত অনুপ্রাণিত বোধ করছি, আশা করছি আপনারা সবাই ফ্যাক্ট চেকিং প্রশিক্ষণে শেখা বিষয় গুলো অনুশীলন করে বাস্তব জীবনে এটি কাজে লাগাবেন।’
এ সময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মশিউর রহমান বলেন, মিডিয়া সিস্টেম ডিপেনডেন্সি তত্ত্ব দেখায় মানুষ কীভাবে মিডিয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়। নিকেরসন ও কনফার্মেশন বায়াস ব্যক্তিগত ধারণাকে তথ্য বিকৃত করতে পারে। বারবার ভুল তথ্যে ট্রু ইফেক্ট তৈরি হয়, তাই প্রোপাগান্ডা ও ফ্রেমিং বিশেষভাবে সতর্কতা দাবি করে। সুতরাং কোনো কনটেন্ট শেয়ার বা বিশ্বাসের আগে অবশ্যই যাচাই করুন — “ভেরিফাই কনটেন্ট ফার্স্ট”।
সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজের গবেষণা সমন্বয়কারী জুলকার নাঈন বলেন, “সংবাদ দেখেই বিশ্বাস করার সুযোগ নেই, ফ্যাক্ট-চেক করা জরুরি। ফ্যাক্ট-চেক করা কেবল ফ্যাক্টচেকারদের দায়িত্ব না। সেটি সকলেরই দায়িত্ব। যেকোনো পলিটিক্যাল ইভেন্টের আগে কিংবা বিশেষ ক্রাইসিস পিরিয়ডে অপতথ্য বেশি ছড়ায়, ফ্যাক্ট-ওয়াচ প্রস্তাবিত কমিউনিটি গাইড ব্যবহার করে সেটি সহজে ফ্যাক্ট-চেক করা সম্ভব।”
আরও পড়ুনঃ
উল্লেখ্য, সিকিউএস-ইউল্যাবের এই গ্রাসরুট উদ্যোগটি দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের পেরি প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


