আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ১০ দিনে হাসপাতাল নির্মাণের পর এবার শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষায় রোবট বানিয়েছে চীন। সংক্রমণ ঠেকাতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়াতেই ব্যবহার করা হবে এই রোবট।
এই ভারাইসটি শনাক্ত করতে গিয়ে চীনে প্রতিদিনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন অসংখ্য স্বাস্থ্যকর্মী। তাই ঝুঁকি এড়াতে এবার রোবট ব্যবহার।
এরই মধ্যে গুয়াংডং প্রদেশের গুয়াংঝু শহরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছে ফাইভজি চালিত এই রোবট। শরীরের তাপমাত্রা দেখার পাশাপাশি মাস্ক নাপরেই কেউ ঘোরাফেরা করছেন কিনা সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
এটি একসঙ্গে অনেকের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন রোবটটির নির্মাতা ঝাং শাওফেই। তিনি জানান, এই রোবট একইসঙ্গে ১০ জনের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে পারবে। যখনই কারো শরীরে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরা পড়ছে এটি সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তির ছবি তুলবে।
এরইমধ্যে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল গিলেড সায়েন্সের ওষুধ ব্যবহার শুরু করেছে চীন।
টোংজি হাসপাতাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ঝাও জিয়াংপিং বলেন, ওষুধটি নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী। তবে কতটা নিরাপদে এটি রোগ নিরাময় করতে পারে তা দেখতে হবে। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়ে জনমনে উদ্বেগ থাকলেও ইবোলা মোকাবেলায় যখন এটি ব্যবহার করা হয়, তখন বিরূপ কিছু দেখা যায়নি।
প্রথম দফায় ৭৬১ জনকে এই ওষুধ দেয়া হবে। ভালো ফল পাওয়া গেলে করোনাভাইরাস রোধে এই ওষুধ ব্যবহার শুরু করবে চীন।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। শুক্রবার দেশটিতে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ মারা গেছেন। ফলে সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৭২২। এই সংখ্যা গত দুই দশক আগে চীন ও হংকংয়ে ছড়িয়ে পড়া সার্স ভাইরাসে মৃত্যুর চেয়ে বেশি।
চীনে শুক্রবার রাতারাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছে, যাদের অধিকাংশই হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। দেশটিতে একদিনে করোনায় এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে একদিনে মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ৭৩। ফলে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২২য়ে গিয়ে দাঁড়ালো।
শুক্রবার মৃতদের মধ্যে ৮১ জনেরই মৃত্যু হয়েছে হুবেই প্রদেশে। এসব মৃত্যুর ৬৩টি রেকর্ড করা হয়েছে প্রদেশের রাজধানী উহানে। এই শহর থেকেই গত ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ চীন জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। চীনের বাইরে আরো কমপক্ষে ২৫টি দেশে এই ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে। ইতিমধ্যে হংকং ও ফিলিপাইনে করোনায় আক্রান্ত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
চীনা স্বাস্থ্য কমিশন আরও জানায়, শুক্রবার দেশটিতে নতুন করে আরও ৩৩৯৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে সেখানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত মোট মানুষেণ সংখ্যা বেড়ে ৩৪৫৪৬য়ে গিয়ে দাঁড়ালো।
বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।
এদিকে চীনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সম্পর্কে আগেই সতর্ক করে দেয়া চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াং মারা গেছেন। ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল উহানে মারা যান তিনি। গত ১২ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরে করোনাভাইরাসের বিষয়টি ধরা পড়েছিলো গত পহেলা ফেব্রুয়ারি। রোগীর দেহ থেকে লির শরীরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিলো বলে জানা যায়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


