আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি রেস্তোরাঁয় বোমা হামলায় এক চীনা নাগরিকসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহত বাকি ছয়জনই আফগান নাগরিক। এই ঘটনায় এক শিশুসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনযায়ী, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) কাবুলের শেহের-ই-নাও বাণিজ্যিক এলাকায় চীনা মালিকানাধীন ওই রেস্তোরাঁটিতে হামলা চালানো হয়।
পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান জানান, এলাকাটিতে বিভিন্ন অফিস, শপিং কমপ্লেক্স ও দূতাবাস রয়েছে এবং এটি শহরের অন্যতম নিরাপদ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। জাদরান আরও জানান, চীনা নুডলস রেস্তোরাঁটি যৌথভাবে পরিচালনা করতেন আব্দুল মজিদ নামের এক চীনা মুসলিম, তার স্ত্রী এবং আব্দুল জব্বার মাহমুদ নামের একজন আফগান অংশীদার। রেস্তোরাঁটি মূলত চীনা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য খাবার পরিবেশন করত।
বিস্ফোরণটি রেস্তোরাঁর কিচেনের কাছে ঘটেছিল। এতে আইয়ুব নামে এক চীনা নাগরিক এবং ছয়জন আফগান নিহত হন। পরে আইএসআইএলের আফগান শাখা এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এটি ছিল আত্মঘাতী বোমা হামলা। আইএসআইএলের আমাক নিউজ এজেন্সি বলেছে, উইঘুরদের ওপর চীনা সরকারের ক্রমবর্ধমান অপরাধের প্রতিবাদে তারা চীনা নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ১ কোটি উইঘুর মুসলিমের ওপর ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আসছে। তবে বেইজিং এই নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে মিথ্যা ছড়ানোর অভিযোগ এনেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে রেস্তোরাঁর সামনের দিকে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে এবং রাস্তায় ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ধোঁয়া বের হচ্ছে।
ইতালীয় এনজিও ইমার্জেন্সি জানিয়েছে, কাবুলে তাদের পরিচালিত একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে বিস্ফোরণস্থল থেকে ২০ জনকে আনা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ৭ জন পৌঁছানোর আগেই মারা যান। সংস্থাটি বলেছে, হতাহতের এই সংখ্যা এখনো প্রাথমিক।
এনজিওটি এক বিবৃতিতে বলেছে, হাসপাতালের কাছে শাহর-এ-নও এলাকায় বিস্ফোরণের পর ২০ জনকে ইমার্জেন্সির সার্জিক্যাল সেন্টারে আনা হয়। তাদের মধ্যে সাতজন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত ছিলেন।’ আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।
২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে কাবুলসহ পুরো আফগানিস্তানে বিস্ফোরণের ঘটনা কমেছে। তবে আইএসআইএলের সহযোগী সংগঠনগুলো এখনো দেশটিতে সক্রিয় রয়েছে এবং মাঝেমধ্যে এই ধরনের হামলা চালিয়ে থাকে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


