অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধে এনইআইআর প্রথা বাতিল ও বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারদের মুক্তির দাবিতে কারওয়ান বাজার মোড় অবরোধ করেছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। আন্দোলনকারীদের হঠাতে পুলিশ জলকামান, টিয়ার গ্যাস এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করলে পুরো এলাকায় ভয়াবহ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’ (এমবিসিবি)-এর ব্যানারে ব্যবসায়ীরা পরিবারসহ সার্ক ফোয়ারা মোড়ে অবস্থান নেন। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো—
১ জানুয়ারি থেকে চালু হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) ব্যবস্থা বাতিল করা। বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় আটক ব্যবসায়ীদের নিঃশর্ত মুক্তি।
দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে ব্যবসায়ীরা পুনরায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ৭টি সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় প্রথম দফায় লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ সড়ক পরিষ্কার করেছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পার্শ্ববর্তী শপিংমলগুলোতে আশ্রয় নিয়ে পুনরায় ইটপাটকেল ছুড়লে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে।
ব্যবসায়ীদের এই অবস্থানের কারণে কারওয়ান বাজার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা কার্যত পুরো রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে স্থবির করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেট বন্ধে এনইআইআর ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। এর ফলে আনঅফিশিয়াল ফোনগুলো নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। এই ব্যবস্থার শুরু থেকেই মোবাইল আমদানিকারক ও খুচরা ব্যবসায়ীরা তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটল আজকের এই সহিংস আন্দোলনে।
সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


