সারা দেশে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ কৃষক সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের সুবিধা পাচ্ছেন। এর মধ্যে যশোরের ৭ হাজার ৬৩৮ কৃষক রয়েছেন। নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা এ সুবিধার আওতায় আসছেন। যশোরে জীবিত ও মৃত এসব কৃষকের কাছে ব্যাংকের পাওনা প্রায় ৬ কোটি টাকা।

কৃষিঋণ মওকুফ

Advertisement

সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সতর্কতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে সরকারি ভর্তুকি নয়ছয় না হয়।

নির্বাচনের আগে বিএনপি অঙ্গীকার করেছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই তা কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয় যশোরের তথ্যমতে, সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে মূল পাওনা এবং বকেয়া সুদ মিলিয়ে জেলায় তার ব্যাংকের মোট ছয় কোটি ৫৮ লাখ সাত হাজার ৮৭৪ টাকা মওকুফ হচ্ছে। জেলায় কৃষি ব্যাংকের ২২টি শাখার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঋণ মওকুফ হয়েছে সদর উপজেলায়। যশোর শাখায় ১৯২৮ জন কৃষকের ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

এছাড়াও গোপালপুর বাজার শাখায় এক হাজার ৫৫ জন, মণিরামপুরে ৭৭০, চৌগাছায় ৫২০ জন, রূপদিয়া শাখায় ৪৭৭ জন, বাঘারপাড়ায় ৩৯৬, নাভারণ শাখায় ৩৬৯, লক্ষণপুর শাখায় ২২৬, নওয়াপাড়ায় ২০৮, মশিয়াহাটিতে ১৪২, খেদাপাড়া বাজার শাখায় ১২১, ঝিকরগাছা শাখায় ১২১, শার্শায় ১১৫, কেশবপুরে ১০১, সিংহঝুলি বাজার শাখায় ১২১, খাজুরা বাজারে ৯৯, নারায়ণপুর বাজার শাখায় ৭৩, কায়েমকোলায় ৩৮, হাসানপুরে ৩৫, জগদীশপুর ৩১ এবং কলাগাছির ১০ কৃষক এ সুবিধা পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক যশোর মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক এনায়েত করিম বলেন, নতুন সরকার গঠনের ১৫ দিনের মাথায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের যে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাকে ‘কৃষিবান্ধব ও মানবিক’ হিসেবে দেখছেন জেলার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা। ঋণগ্রস্ত কৃষকরা যাতে নতুন উদ্যমে আবারও চাষাবাদে বিনিয়োগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই সরকার এ বিশাল অংকের ভর্তুকি দিচ্ছে। ঋণ মওকুফের পর কৃষকরা নতুন করে কৃষিঋণ নিতে পারবেন। তবে একই ব্যক্তি একাধিক ঋণ নিয়ে থাকলে এ সুবিধা পাবেন না।

অতীতে ১৯৯১ ও ২০০১ সালেও বিএনপি সরকারের সময় আংশিক ঋণ মওকুফের নজির রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারের এ ঘোষণায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা। যশোর সদর উপজেলার সিরাজসিংহা গ্রামের কৃষক শাহীন বলেন, গরিব কৃষক হিসেবে ১০ হাজার টাকা ঋণ মওকুফ হওয়ায় অনেক উপকার হবে।

শুধু জীবিত কৃষকরাই নন, ঋণ মাথায় নিয়ে মারা যাওয়া অসহায় পরিবারের মুখেও হাসি ফুটেছে সরকারের এ সিদ্ধান্তে।

যশোর সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহিরমল্লিক গ্রামের কৃষক মৃত আব্দুর রশিদের পরিবার জানায়, পাঁচ বছর আগে তিনি মারা গেছেন। তার ছোট ভাই অহিদ আলী জানান, মৃত্যুর পর ব্যাংক কর্মকর্তারা কাগজপত্র নিয়ে গেলেও এরপর আর যোগাযোগ করেননি।

তিনি বলেন, লোনটা মাফ হলে আমাদের জন্য খুব ভালো হবে। আমার ভাই অসহায় ছিল, কিছুই রেখে যেতে পারেননি।

ভাটপাড়া এলাকার জয় হরিদাস বৈরাগী ১৯৯২ সালে মারা যান। তার ছেলে শঙ্কর অধিকারী জানান, বাবার প্রায় আট হাজার টাকা ঋণ ছিল। সরকার ঋণ মওকুফ করেছে এ কথা জেনে ভালো লাগছে।

ফরম পূরণ করতে এসে জানতে পারে আগের বছরই পাস করেছে

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সারা দেশে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে সরকারকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা মওকুফ করতে হবে। এর মাধ্যমে এক দিকে যেমন কৃষকরা ঋণের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন; অন্যদিকে নতুন করে উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Md Elias is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency across digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and reader-focused reporting.