মিঠা পানির জলাশয়ে যে মাছগুলো পাওয়া যায় তাদের মধ্যে ট্যাংরা অন্যতম। মাছটি খুবই সুস্বাদু, মানব দেহের জন্য উপকারী পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ এবং কাটা কম বিধায় সবার কাছে প্রিয়।প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ট্যাংরা মাছ একটি পরিচিত নাম হলেও এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অনেকেই সচেতন নন। এ মাছটি স্বাদের পাশাপাশি শরীরের জন্য নানা উপকার বয়ে আনে। চলুন এ মাছ খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন।

এ মাছ নানা ধরনের উপাদানে ভরপুর। এতে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এ ছাড়াও এতে আছে ভালো ফ্যাট। এবার জেনে নেওয়া যাক, এই মাছ খেলে শরীরে কী কী প্রভাব পড়তে পারে, কেন এই মাছ অনেককেই খেতে বলা হয়।
ট্যাংরা মাছ খেলে হার্ট ভালো থাকে। কারণ এটি কোলেস্টরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখে। মুরগি বা খাসির মাংসে যে ধরনের প্রোটিন থাকে, তার চেয়ে অনেক আলাদা প্রোটিন মাছে থাকে। যে কোলেস্টরলের ভয়ে আপনি ভয় পান, মাছ খেলে সেটা কিন্তু অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। এতে যে ফ্যাট থাকে সেটা সহজে শরীরে দ্রবীভূত হয়ে যায়।
এ মাছে এমন অনেক উপাদান রয়েছে, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। প্রতিদিন মাছ খেলে আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের মতো রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারবে না। ফলে বয়স্করা এ মাছ খেলে বিশেষ সুবিধা পাবেন।
এ মাছের মধ্যে যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে, যা মস্তিষ্কের বিকাশে অত্যন্ত কার্যকরী। এ উপাদান ব্রেনের কোষ সতেজ রাখে এবং মেধার বিকাশ ঘটায়। তাই শিশুদের এই মাছ খাওয়ালে উপকার পাওয়া যায়।
মাছ খেলে শরীরে কোলাজেন বৃদ্ধি পায়। যেহেতু কোলাজেন ত্বক এবং চুল, দুটির জন্যই ভালো, সেহেতু মাছ খেলে এই দুটোই ভালো থাকে। মাছের এই গুণ আছে যে সে সেল মেমব্রেনের মধ্যে তরল ভাব বজায় রাখে। এজন্য শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা আবার ফিরে আসে এবং চুলও নরম আর উজ্জ্বল হয়।
যাদের চোখের সমস্যা হয়, তাদের চিকিৎসকরা এই মাছ খেতে বলেন। বিশেষ করে মাছের চামড়া বা তেল তাদের পক্ষে খুবই ভালো। এই মাছের পুষ্টি উপাদান চোখ ভালো রাখে, রেটিনা সুস্থ রাখে এবং চোখের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে।
এতে আছে ভিটামিন ডি। ভিটামিন ডি হাড় মজবুত রাখে। তাই এই মাছ খেলে হাড়ের সমস্যা অনেকটাই দূর হয়। বিশেষ করে যাদের আর্থ্রাইটিস আছে তাদের পক্ষে এটা খুব ভালো মাছ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।

