
বিগত সরকারের আমলে ইসলামী ব্যাংক একটি সুনির্দিষ্ট দল ও গোষ্ঠীর প্রতি অনুগত ছিল। তবে এখন থেকে আর এই ব্যাংকের কোনো গ্রুপ, দল কিংবা পরিবারের হয়ে কাজ করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ চারজন বোর্ড সদস্য এবং ব্যাংকের শীর্ষ ১০ কর্মকর্তার সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত থাকা একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওই কর্মকর্তা জানান বৈঠকে গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংক একসময় অত্যন্ত ভালো একটি ব্যাংক ছিল। কিন্তু মাঝখানে বেশ কিছু সময় ব্যাংকটিতে সুশাসনের চরম ঘাটতি দেখা দেয়। ব্যাংকটি ভালো রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের সহযোগিতা করে যাবে।
সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কয়েক হাজার কর্মকর্তা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন, যাঁদের বেশির ভাগই চট্টগ্রামের একটি এলাকা থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত।
এসব বিষয়ে গভর্নর কিগু বলেছেন কি না জানতে চাইলে বৈঠকে থাকা ওই ব্যক্তি বলেন, গভর্নর এ বিষয়টি উত্থাপন করেননি।
ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের শেষ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা। এক বছরে অর্থাৎ ২০২৫ সালে আমানত বেড়েছে ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আমানত এখন ২২ হাজার কোটি টাকা, গত বছরের তুলনায় যা পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি।
এর পাশাপাশি ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিং খাতে আমানত পাঁচ হাজার কোটি টাকা বেড়ে বর্তমানে ২২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
গত এক বছরে ব্যাংকটি ৭৬ হাজার কোটি টাকা প্রবাস আয় (রেমিট্যান্স) সংগ্রহ করেছে। একই সময়ে ইসলামী ব্যাংকের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৬০ হাজার কোটি এবং ৩২ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংকটির গ্রাহক সংখ্যা তিন কোটিতে উন্নীত হয়েছে, যার মধ্যে গত এক বছরেই যুক্ত হয়েছেন ৫০ লাখ নতুন গ্রাহক।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


