প্রান্তিক খামারিদের কাছে কোরবানির পশু শুধু ব্যবসা নয়, বরং বছরের পর বছর ঘাম ঝরানো শ্রম, ভালোবাসা ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার প্রান্তিক খামারি জাহিদ-ছাবিনা দম্পতি। তাদের খামারে যেন গড়ে উঠেছে মানুষ আর পশুর এক অনন্য মায়ার গল্প।

নিজেদের সন্তানের মতো আদর-যত্নে বড় করা বিশাল আকৃতির গরুটির নাম রেখেছেন ‘জামালপুরের জামাল মিয়া’। এবার ঈদের হাটে এই গরুই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তারা।
উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের কুলকান্দি গ্রামের খামারি জাহিদ ও ছাবিনা দম্পতি জানান, প্রায় আড়াই বছর ধরে লালন-পালন করা গরুটির ওজন প্রায় ৩৬ মণ বা প্রায় ১ হাজার ৪০০ কেজি। বিশাল আকৃতির পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা ও ভালোবাসার কারণেও গরুটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
খামার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন নির্ধারিত খাদ্যের পাশাপাশি গরুটিকে মিষ্টি আলু ও বিভিন্ন ফল খাওয়ানো হয়, যা তার খুবই পছন্দের। পরিবারের সদস্যের মতোই গরুটির দেখভাল করেন সবাই।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল আকৃতির গরুটিকে গোয়ালঘর থেকে বের করতে ১০ থেকে ১২ জনকে রশি টানতে হয়। গরুটিকে সামলানো কঠিন হলেও পরিচর্যায় ব্যস্ত পুরো পরিবার। তবে আকার ও শক্তির কারণে সাধারণ মানুষ কিছুটা ভয়ে খুব কাছে যেতে সাহস পান না।
গরুটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল মিয়া বলেন, “এত বড় গরু এলাকায় খুব কম দেখা যায়। জাহিদ-ছাবিনা দম্পতি অনেক কষ্ট করে গরুটি লালন-পালন করেছেন। তারা যেন ন্যায্য দাম পান, সেটাই চাই। এতে অন্যরাও গরু পালনে উৎসাহিত হবে।”
খামারি জাহিদ মিয়া বলেন, “হালাল উপার্জনের আশায় চাকরি ছেড়ে খামার গড়েছি। নিজের সন্তানের মতো গরুটিকে লালন-পালন করেছি। এখন বিক্রি করতে হবে ভাবতেই খারাপ লাগছে। তবুও সংসারের প্রয়োজনে বিক্রি করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গরুটিকে সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। শুধু যত্ন আর পরিচর্যার মাধ্যমেই আজকের এই ‘জামাল মিয়া’। গরুটির ন্যায্য দাম হিসেবে ৯ লাখ টাকা আশা করছি। এর কমে বিক্রি করলে লোকসান হবে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



