
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে কোনো ধরনের কার্যক্রমের অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
আটক ব্যক্তির নাম নুরুদ্দীন ব্যাপারী। তিনি ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে। তাঁর বাড়ি ডুমনিবাজার এলাকার টেকপাড়ায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনরায় সংগঠিত করার চেষ্টা এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সম্প্রতি ৩০০ ফিট এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে অনুষ্ঠিত মিছিল ও শোডাউনের পেছনে নুরুদ্দীন ব্যাপারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শুধু কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিতই করেননি, বরং এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থায়নও করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, তাঁর মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, অর্থায়ন বা সংগঠিত করার অভিযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন বলেন, “আমার থানা এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের কাউকেই মিছিল বা রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চিহ্নিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর বসে থাকি না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। আজকের ঘটনাও তারই অংশ। কেউ যদি নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে মাঠে নামার চেষ্টা করে কিংবা তাদের সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখে, তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
পুলিশ সূত্র জানায়, নুরুদ্দীন ব্যাপারীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাঁর আর্থিক সংশ্লিষ্টতা, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে বিচ্ছিন্নভাবে কর্মসূচি আয়োজনের অভিযোগ পাওয়ায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শুধু মাঠপর্যায়ের কর্মী নয়, যারা এসব কর্মকাণ্ডে পরিকল্পনা, অর্থায়ন বা সাংগঠনিক সহায়তা দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নুরুদ্দীন ব্যাপারীর আটক হওয়াকে সেই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবেই দেখছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ধরনের তৎপরতা রোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



