নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ গড়ে উঠেছে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায়। ‘গ্লোবাল কিডস স্কুল’ নামের এই ভ্রাম্যমাণ শিক্ষাকেন্দ্রটি টঙ্গী রেলস্টেশন ও আশপাশের বস্তিতে বসবাসকারী শিশুদের জন্য হয়ে উঠেছে আশার বাতিঘর।

প্রতি শুক্রবার সকালে টঙ্গী রেলস্টেশনের পাশে খোলা আকাশের নিচে চট পেতে বসে স্কুলটির পাঠদান কার্যক্রম। মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে থাকা শিশুদের পড়ালেখার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও জীবনমুখী দক্ষতা শেখানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। দুই যুবকের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ ও একান্ত প্রচেষ্টায় পরিচালিত হচ্ছে এই মানবিক কার্যক্রম।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিতভাবে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি দেওয়া হয় খাবার ও পোশাক। পাশাপাশি শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে চিত্রাঙ্কন, হস্তশিল্প, পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী দিয়ে কারুকাজ এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের ফলে অনেক পথশিশু এখন পড়ালেখার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। কেউ কেউ আবার ভবিষ্যতে নিয়মিত বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এভাবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া গেলে সমাজ থেকে অনেক অনিয়ম ও অপরাধ কমে আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব শিকদার বলেন, সমাজের সব স্তর থেকে যদি এমন উদ্যোগ নেওয়া যায়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কোনো শিশুই শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকবে না।
কেরানির টেক বস্তির বাসিন্দা সাত্তার মিয়া বলেন, আমাদের বস্তির অনেক ছেলে-মেয়ে বিপথে চলে যায়। একদিন দুই যুবক এসে চট পেতে শিশুদের পড়ানো শুরু করে। প্রথমে সন্দেহ হয়েছিল, কিন্তু পরে বুঝি তাদের উদ্দেশ্য খুব ভালো। এখন আমাদের সন্তানেরা পড়াশোনা করছে—এতে আমরা খুবই খুশি।
স্কুলটির পরিচালক ও শিক্ষক মুহাম্মদ শামীম রেজা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি শিক্ষা শুধু চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা যদি শিক্ষামুখী হয়, তাহলে অপরাধ কমবে এবং সমাজ উপকৃত হবে।
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাহবুবুর রহমান জিলানী বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু বইয়ের জ্ঞান দেওয়া নয়, বরং শিশুদের জীবন গঠনের পথ দেখানো। আমরা চাই তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে সম্মানের সঙ্গে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। বর্তমানে এখানে ২৫ থেকে ৩০ জন শিশু নিয়মিত পড়াশোনা করছে, আর তাদের পড়াতে পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


