লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে, তার মৃত্যুর স্থান ও প্রকৃতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছে সূত্রগুলো।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
গণমাধ্যমকে সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফির আইনজীবী জানান, চার সদস্যের একটি কমান্ডো দল জিনতান শহরে তার বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ড চালায়। তিনি বলেন, হামলাকারীরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে পালিয়ে যায়।
লিবিয়ান নিউজ এজেন্সির বরাতে সাইফ আল-ইসলামের রাজনৈতিক দলের প্রধানও মঙ্গলবার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।
৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলামকে একসময় বাবার সম্ভাব্য উত্তরসূরি এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয় এবং তদন্ত চলছে।
এদিকে তার বোন লিবিয়ান টেলিভিশনে ভিন্ন দাবি করে বলেন, আলজেরিয়া সীমান্তের কাছে তিনি নিহত হয়েছেন। সাইফের বোন দাবি করেন, জিনতান শহরে তাকে হত্যা করা হয়নি। সীমান্তবর্তী এলাকায় ভ্রমণের সময় এই ঘটনা ঘটে বলে দাবি করলেও তিনি এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।
২০১১ সালের লিবিয়ায় গণঅভ্যুত্থানের পর সাইফ আল-ইসলাম প্রায় ছয় বছর জিনতানে একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর হাতে আটক ছিলেন। বিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তার বিচার চেয়েছিল। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে পূর্বাঞ্চলে জারি করা সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় তিনি মুক্তি পান।
আরও পড়ুনঃ
ফেসবুক পোস্টে দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘোষণা মিল্টন সমাদ্দারের
গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর থেকেই লিবিয়া কার্যত বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ চলছে। বাবার শাসনামলে সাইফ আল-ইসলাম অনানুষ্ঠানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্বে হওয়া আলোচনার ফলেই লিবিয়া পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


