স্পোর্টস ডেস্ক : তিন বছর পর স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বে টেস্ট জিতে নিল অস্ট্রেলিয়া। সেটাও আবার অ্যাশেজে। অ্যাডিলেড টেস্টে ২৭৫ রানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে অ্যাশেজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। ঘটনাক্রমে এই ম্যাচের নেতৃত্ব দিয়েছেন স্টিভেন স্মিথ। তিন বছর আগে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি করে তিনি নেতৃত্ব হারিয়েছিলেন। এবার অ্যাডিলেড ওভালে যেন স্মিথের শাপমুক্তি হলো। করোনাবিধির কারণে প্যাট কামিন্স না থাকায় স্মিথ নেতৃত্ব পেয়ে প্রথম সুযোগেই নিজেকে প্রমাণ করে দেন।

১,৩৬২ দিন পর স্মিথ নিজের অধিনায়কত্ব ফিরে পেয়েছেন। বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর তিনি, ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরন বেনক্রফট অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে ঘৃণিত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত। ওই সময় কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন পর্যন্ত বলেছিলেন, তিনি কখনো স্মিথকে নেতৃত্বে দেখতে চান না। যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে অ্যাশেজের আগে নেতৃত্ব ছাড়েন স্মিথের জায়গায় অধিনায়ক হওয়া টিম পেইন। অ্যাশেজে নেতৃত্ব পান প্যাট কামিন্স, স্মিথ তাঁর ডেপুটি নিযুক্ত হন।
নিষেধাজ্ঞা শেষে ক্রিকেটার হিসেবে স্মিথের দারুণ প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল। এবার অধিনায়ক হিসেবেও সেটাই হলো। ব্যাট হাতেও ৯৩ রানের ইনিংস খেলেছেন। সাময়িকভাবে নেতৃত্ব ফিরে পাওয়ার ঘটনা জানিয়ে এক সাক্ষাৎকারে স্মিথ বলেন, ‘নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি কামিন্সের দুটি মিসড কল আর জাস্টিন ল্যাঙ্গারের (অস্ট্রেলিয়ার কোচ) মেসেজ। সেই মেসেজে লেখা, ‘জেগে আছো?’ তার কাছ থেকেই ঘটনাটা জানতে পারি।”
হুট করে নেতৃত্ব পেয়ে স্মিথ এতটাই অপ্রস্তুত ছিলেন যে, নিজের ব্লেজারও তাঁর সঙ্গে ছিল না। বাধ্য হয়ে কামিন্সের ব্লেজার পরে তিনি টস করতে নামেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চির কামিন্সের ব্লেজার ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির স্মিথের গায়ে বেশ ঢোলা হয়েছিল; কিন্তু অধিনায়কত্ব স্মিথের গায়ে বসে গেছে একেবারে খাপে খাপে। ব্যাট করতে নামার সময় অ্যাডিলেড ওভাল উঠে দাঁড়িয়ে অস্থায়ী অধিনায়ককে বরণ করে নিয়েছিল। এতেই যেন প্রমাণ হয়ে যায়, অতীত যতই তিক্ত হোক, এখনো অস্ট্রেলীয়রা স্মিথকে ভালোবাসে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


