জুমবাংলা ডেস্ক : বিমানের সিনিয়র পাইলট ও বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমানকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে চাকরিচ্যুতির এ আদেশ জানানো হয়।

চিঠিতে তার চাকরিচ্যুতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে অ্যাসোসিয়েশেন অব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের আটিক্যাল ৫৯(বি)-এর ক্ষমতা বলে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল এই চাকরিচ্যুতির আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে গত ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিমানের ২৬৫তম বোর্ড সভার দেয়া ক্ষমতা বলে বিমানের এমডি এ চাকরিচ্যুতির আদেশ দেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে- ক্যাপ্টেন মাহবুব বিমানে চাকরি করাকালীন কোনো বকেয়া পাওনা থাকলে তাকে তার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর করতে বিমানের অ্যাডমিন শাখাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে বাপা সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবকে চাকরিচ্যুতির ঘটনায় গোটা বিমানজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আতঙ্ক নেমে এসেছে পাইলটদের মধ্যে। এ ঘটনায় বিকালে জরুরি বৈঠক ডেকেছে বাপা নির্বাহী কমিটি। শুধু বিমানের ফ্লাইট অপারেশন শাখাই নয়, এ ঘটনায় বিমানের সব বিভাগজুড়ে কর্মচারী কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক নেমে এসেছে।
পাইলটরা বলেছেন, এ ঘটনায় বিমানের সব ধরনের ফ্লাইট চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। কারণ এরকম আতঙ্ক নিয়ে যে কোন পাইলটের পক্ষে ফ্লাইট পরিচালনা বড় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ। হাজার হাজার কোটি টাকার উড়োজাহাজ এবং শত শত যাত্রীর জীবন নিয়ে যেসব পাইলট আকাশে উড়েন এ অবস্থায় তারা চরম আতঙ্কিত।
তারা আরো বলেন, ক্যাপ্টেন মাহবুব বিমানের সব পাইলটদের পক্ষে আন্দোলন করেছেন। নিজের জন্য কোনো কিছুই করেননি। বাপার পুরো নির্বাহী কমিটি ও এবং বাপার সব সদস্যদের জেনারেল মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাপ্টেন মাহবুব মিডিয়ায় কথা বলেছেন।
বাপার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, কোনো ধরনের অগ্রিম নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ তড়িঘড়ি করে একটি রেজিস্টার্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিকে টার্মিনেট করা সম্পূর্ণ অবৈধ হয়েছে। বিমানের এমডি কোনোভাবেই এ আদেশ দিতে পারেন না।
পাইলটদের অভিযোগ ছিল- করোনাভাইরাসের কারণে অর্থ সাশ্রয় করতে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ হারে পাইলটদের বেতন কর্তনের যে সিদ্ধান্ত ছিল কর্তৃপক্ষ সেটি সমন্বয় করেছে। কিন্তু ওভারসিস এলাউন্স উড্ডয়ন ঘণ্টার অনুপাতিক হারে প্রদানের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেটি বাতিল করেনি। অথচ ওভারসিস এলাউন্স তাদের মুল বেতনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি উড্ডয়ন ঘণ্টার আনুপাতিক হারে বণ্টন সম্পূর্ণ অবৈধ। এটা করতে গিয়ে জুনিয়র পাইলটদের ৪৮ শতাংশ এবং সিনিয়র পাইলটদের মূল বেতনের ২২ শতাংশ কমে গেছে। বেশ কিছুদিন ধরে বাপা সভাপতি হিসেবে ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান এ নিয়ে আন্দোলন করে আসছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে এর জের ধরেই এ চাকরিচ্যুতির আদেশ দেয়া হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


