জাপানের বিশ্বখ্যাত চেরি ব্লসম উৎসবের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবার আর উপভোগ করতে পারবেন না পর্যটকরা। বসন্তকালে নান্দনিক মাউন্ট ফুজি এলাকায় যে আনন্দঘন পরিবেশ বিশ্বের ভ্রমণপিপাসুদের প্রধান আকর্ষণ ছিল, তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাতিল করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসির।

অতিরিক্ত পর্যটকের ভিড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠায় এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ায় ইয়ামানাশি অঞ্চলের ফুজিইয়োশিদা শহর কর্তৃপক্ষ এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষের সমাগম ঘটানো এ উৎসব স্থানীয়দের জন্য এখন চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শহর কর্তৃপক্ষ জানায়, পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত আচরণের কারণে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রা পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়েছে। জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান কমে যাওয়ায় দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের ঢল নেমেছে, যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অবকাঠামো ও পরিবেশের ওপর।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে ৩ কোটি ৭০ লাখ এবং ২০২৫ সালে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ পর্যটক জাপান ভ্রমণ করেছেন। এই বিশাল জনস্রোত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কিয়োটো ও ফুজিইয়োশিদার মতো শহরগুলো।
অভিযোগ উঠেছে, পর্যটকরা যত্রতত্র সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ফেলছেন, যানজট তৈরি করছেন। এমনকি স্থানীয়দের ব্যক্তিগত বাগানে ঢুকে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে পর্যটকদের দ্বারা ঐতিহ্যবাহী কিমোনো পরিহিত গেইশাদের বিরক্ত করার মতো ঘটনাও ঘটছে।
ফুজিইয়োশিদা শহরে পর্যটকদের এই আগমনের কারণে দীর্ঘস্থায়ী যানজট এবং আবর্জনার সমস্যা তৈরি হয়। কিছু বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন যে পর্যটকরা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ করছেন, এমনকি তাদের বাগানে মলমূত্রও ত্যাগ করছেন।
ফুজিইয়োশিদার মেয়র শিগেরু হোরিউচি এক বিবৃতিতে বলেন, মাউন্ট ফুজির সৌন্দর্যের আড়ালে স্থানীয়দের বিপন্ন জীবনের এক রূঢ় বাস্তবতা লুকিয়ে আছে। নাগরিকদের মর্যাদা এবং বসবাসের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা করতেই ১০ বছরের পুরোনো এই উৎসবটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো সাধারণ সমস্যা নয়, বরং একটি গভীর মানবিক সংকট বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শহর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, উৎসব বাতিল করা হলেও বসন্তের শুরুতে পর্যটকদের আনাগোনা পুরোপুরি থামানো অসম্ভব। কারণ, পাঁচতলা প্যাগোডা ও চেরি গাছের নিচ থেকে মাউন্ট ফুজি দেখার যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, তা পর্যটকদের আকর্ষণ করবেই। ইতোপূর্বে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে ছবি তোলার জায়গায় কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা তৈরি এবং পাহাড়ে ওঠার জন্য ফি নির্ধারণ করা হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।
জাপানে বসন্তকাল সাধারণত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মনোরম আবহাওয়া এবং চেরি ফুলের অপূর্ব সৌন্দর্যের জন্য এটি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় সময়। এছাড়া বসন্তের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো চেরি ফুল। চলতি বছর টোকিওতে ২১ মার্চ নাগাদ ফুল ফোটা শুরু হতে পারে এবং ২৮-২৯ মার্চের মধ্যে তা পূর্ণ রূপ পেতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


