অনেকে চোখ ঝাপসা হওয়ার ঘটনা ক্লান্তি, দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে থাকা বা ঘুমের অভাব হিসেবে উপেক্ষা করেন। তবে হঠাৎ এক চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গেলে তা কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এটি চোখ বা শরীরের গুরুতর কোনো সমস্যার সংকেত হতে পারে এবং সময়মতো চিকিৎসা না নিলে স্থায়ী দৃষ্টিহীনতার ঝুঁকি থাকে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, আকস্মিক দৃষ্টির পরিবর্তন শরীরের ভেতরের বড় সমস্যার সতর্কবার্তা হতে পারে।
ঝাপসা দৃষ্টি কখন বিপজ্জনক?
কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য দৃষ্টি ঝাপসা হলে তা বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এর পেছনে থাকতে পারে—
১. রেটিনাল ডিটাচমেন্ট: চোখের রেটিনার স্থানচ্যুতি।
২. চোখে স্ট্রোক: রেটিনার ধমনিতে রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া।
৩. অপটিক নিউরাইটিস: চোখের স্নায়ুর প্রদাহ।
৪. অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা: চোখের চাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া।
৫. মস্তিষ্কে স্ট্রোক: মস্তিষ্কের সেই অংশে সমস্যা, যা দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে।
নিজে নির্ণয় করবেন না
সব ক্ষেত্রে ঝাপসা দৃষ্টি বিপজ্জনক নাও হতে পারে। চোখ শুষ্ক থাকা, মাইগ্রেন, রক্তে শর্করার ওঠানামা বা চশমার পাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এমন হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না কোনটি জরুরি। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ঝুঁকিতে থাকা গ্রুপ
যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা রক্তনালির সমস্যা আছে, তাদের ঝুঁকি বেশি। হঠাৎ ঝাপসা দেখা মস্তিষ্কে স্ট্রোকেরও ইঙ্গিত হতে পারে। যদি সঙ্গে হাত-পা দুর্বল লাগা, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা মাথা ঘোরা থাকে, অবিলম্বে হাসপাতালে যেতে হবে।
যে লক্ষণগুলো উপেক্ষা করবেন না
চোখে তীব্র ব্যথা বা লাল ভাব
চোখে আলোর ঝলকানি বা ভাসমান কালো দাগ
তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে বমি ভাব
হঠাৎ এক চোখে দেখার ক্ষমতা হারানো
শরীরের একদিকে দুর্বলতা বা কথা বলতে অসুবিধা
দ্রুত চিকিৎসার গুরুত্ব
দেরি হলে চোখের ক্ষতি স্থায়ী হতে পারে। আধুনিক পরীক্ষা ও ইমেজিং পদ্ধতিতে দ্রুত রেটিনার সমস্যা বা স্নায়ুর প্রদাহ শনাক্ত করা সম্ভব। সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই শরীরের এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


