ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরসহ সব ছাত্র সংগঠন এবং বিএনপি-জামায়াতসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এমন তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে ছাত্র প্রতিনিধিদের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
জুলাই বিপ্লবের চেতনা সংরক্ষণ এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এই বৈঠকে অংশ নেন ডাকসুর প্রতিনিধিরা। বৈঠকের শুরুতে তারা সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
বৈঠক শেষে সাদিক কায়েম বলেন, তারেক রহমান দেশের ছাত্রসমাজের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তির ঐক্য অটুট রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, রাজনীতিতে মতভিন্নতা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলেও বাংলাদেশ ও জুলাই বিপ্লবের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সাদিক কায়েম আরও জানান, তারেক রহমান বিএনপি-জামায়াতসহ সব ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরসহ সব ছাত্র সংগঠনকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব দেশবাসীর সামনে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তবে বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে দিল্লির তাঁবেদার ও পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডাকসু ভিপি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি চর্চা এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই আগামী দিনের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে তরুণ প্রজন্ম ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোটের মতো উদ্যোগে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
বৈঠকে আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও আলোচনা হয়। সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতারা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সবশেষে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত করতে দেশের ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


