
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত বছরের সেপ্টেম্বরে লেকে ঘুরতে গিয়ে নিজের আইফোনটি হারিয়েছিলেন ফাতেমা গদসি। প্রায় মাস ছয়েক পর তিনি মুঠোফোনে একটি এসএমএস পান, কেউ একজন তার ফোনটি খুঁজে পেয়েছেন। প্রথমে তিনি বিশ্বাস করেননি, ভেবেছিলেন নিশ্চয় কোনো বন্ধু মজা করছেন তার সঙ্গে।
ফাতেমা গদসি কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে বসবাস করেন। তার আইফোনটি হারিয়ে যায় হ্যারিসন লেকে। সেটা তার বাড়ি থেকে খুব খুব দূরে নয়। তাই ব্যাপারটা পরখ করে দেখাতে এসএমএসে দেওয়া ঠিকানায় ঢু মারার সিদ্ধান্ত নিলেন। চলে যান সেখানে এবং হারানো আইফোনটি ফিরে পেলেন।
কানাডীয় সংবাদমাধ্যম সিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাতেমার তখনো অবাক হওয়ার বাকি। কিছুক্ষণ বাদে তিনি দেখলেন, ফোনটি তখনো কার্যকর।
হ্যারিসন লেকের তলায় আইফোন ১১ মডেলের স্মার্টফোনটি খুঁজে পান ক্লেটন হেলকেনবার্গ ও তার স্ত্রী হিদার। শখের বসে তারা অদ্ভুত সব সামগ্রীর আশায় জলাশয়ের তলায় খুঁজে বেড়ান। বেশিরভাগ সময়ে আবর্জনা ছাড়া তেমন কিছু মেলে না। মূল্যবান কিছুর খোঁজ মেলে কদাচিৎ।
ওদিকে ফাতেমা ফোনটি হারিয়েছিলেন গত বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে। টিউবের সাহায্যে তৈরি বাম্পার বোটে চড়ে ঘোরার সময় তার আইফোন পানিতে পড়ে যায়। ফোন পানিতে পড়ে যাওয়ার আগে বন্ধুর সঙ্গে ছবি তুলেছিলেন ফাতেমা গদসি। ফোন থেকে সেই ছবিগুলোও উদ্ধার হয়েছে।
ফাতেমা গদসি বলেন, পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলাম আর তখনই ফোনটি পানিতে পড়ে যায়।
হ্যারিসন লেকের ওই অংশে রয়েছে ওয়াটার পার্ক। পার্কের কর্মীরা ফাতেমাকে বুঝিয়েছিলেন, এমন গভীর লেক থেকে কোনোভাবেই সেই ফোন উদ্ধার করা যাবে না। হতাশ হয়ে ফিরে যান ভ্যাঙ্কুভারে। পরে নতুন আরেকটি ফোন কিনে নেন। তবে ব্যাকআপ না থাকায় ছবি, ফোন নম্বরের তালিকা এবং অন্যান্য তথ্য হারাতে হয়েছিল।
জলাশয়ের নিচে মূল্যবান জিনিসপত্রের খোঁজে ডুব দিয়ে বেড়ান ক্লেটন হেলকেনবার্গ। সেসব অভিযানের ভিডিও ধারণ করে পোস্ট করেন ইউটিউবে। এখন পর্যন্ত বহু ফোন তিনি খুঁজে পেয়েছেন, বেশিরভাগই ফিচার ফোন ধাঁচের। ফোন পেলে সচরাচর শুকানোর জন্য সিলিকার কন্টেইনারে রাখেন তিনি। ফাতেমার আইফোন ১১ সম্পর্কে বলেন, আমি সেটা বাড়ি নিয়ে গিয়ে ময়লা পরিষ্কার করার পর সেটি চালু হয়। ব্যাপারটি চমৎকার।
মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন থেকে সিম কার্ড বের করে আরেকটি মুঠোফোনে প্রবেশ করান। এরপর যোগাযোগ হয় ফাতেমার সঙ্গে।
ফাতেমা বলেন, শুরুতে আমি খুবই অবাক হয়েছি। যেন একটি জোম্বি ফোন আমার কাছে ফিরে এল। কারণ, হারিয়ে যাওয়ার পর ব্যাপারটি আমি পুরোপুরি মেনে নিয়েছিলাম।
ফাতেমা জানিয়েছেন, ফোনের মাইক্রোফোন ভেঙে গেছে আর স্পিকারে এখন শব্দ অদ্ভুত শোনায়। বাদবাকি সব ঠিকঠাক। তখনো ৯৬ শতাংশ ব্যাটারি ছিল। আনন্দের ব্যাপার তো বটেই। তবে তার সবচেয়ে ভালো লেগেছে ক্লেটন হেলকেনবার্গের কাজ। ফোন ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে লোকটি কিছুই নেননি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


