জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২১ বছরে এই প্রথম জকসু নির্বাচন হচ্ছে। এদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। শেষ হবে বিকেল ৩টায়। নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে মোট ৩৯টি ভোটকেন্দ্র ও ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর এটাই প্রথম জকসু নির্বাচন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জকসু নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৭০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে মোট ১৫৭ জন এবং হল সংসদের ১৩টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৩ জনসহ কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থী ১৮৭ জন।
জকসু নির্বাচনে মোট ৪টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে—শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’। হল সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তিনটি প্যানেল—‘অদম্য জবিয়ান’, ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’ ও ‘রোকেয়া পর্ষদ’।
নির্বাচন কমিশন জানায়, কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য ১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে ভোটগ্রহণ বুথ রাখা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ শেষে গণনার পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটার, শিক্ষক এবং নির্বাচন কাজে বিশেষভাবে অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। এজন্য পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক।
এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ক্যাম্পাসে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও মাঠে রয়েছেন। বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটার শিক্ষার্থীরা কেবল ১ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন এবং ভোট শেষে ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে বের হতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২ নম্বর গেট ব্যবহার করতে হবে এবং আইডি কার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিস জানিয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতেমা কাকলি বলেন, আজকের মধ্যেই ভোটগ্রহণ ও ফল প্রকাশ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর আজকের ভোটেই নির্ধারিত হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম জকসুর নেতৃত্ব।
ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অংশ নেয়া ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী এ কেএম রাকিব ও শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম জানান জয়-পরাজয় যাই হোক মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন শুরুর ঠিক আগে সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরদিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নতুন তারিখ দিয়ে পুনরায় আজকের দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে দুই দফা পিছিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয় বিগত বছরের ৩০ ডিসেম্বর।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


