আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিসরের শারম আল শাইখে জলবায়ু সম্মেলনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন প্রায় ২০০ দেশের প্রতিনিধিরা। জাতিসংঘের ২৭তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে দেশগুলো ক্ষতিপূরণ তহবিলে সম্মত হয়েছে।
জলবায়ু সম্মেলন

Advertisement

বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার গভীর রাতে জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ২৭) দেশগুলো এ সম্মতি দেয়। সম্মেলনের রাত্রিকালীন অধিবেশনে খসড়া চুক্তির বিধানগুলো অনুমোদন করা হয়।

যার মধ্য দিয়ে ঝড় ও বন্যার মতো জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তায় তহবিল গঠনে সম্মতি দেয় ১৯৮ দেশ।

‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিল গঠন নিয়ে আলোচনা প্রত্যাশিত সময়ের চেয়েও দীর্ঘ হতে শুরু করে ধনী এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে। গত ৯ নভেম্বর শুরু হওয়া জলবায়ু সম্মেলন ১৮ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। বাড়তি দিনে এসে ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয় সম্মেলনে অংশ নেয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।

প্রসঙ্গত, মিসরের শারম আল শাইখে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন ১৯৮টি দেশের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

গতকাল চুক্তির সম্ভাবনার কথা জানার পরই উন্নয়নশীল দেশগুলো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। সম্মেলনে উপস্থিত হওয়া আফ্রিকার দেশ গিনির প্রতিনিধি আলফা উমর কালোগা বলেন, এটি খুবই অসাধারণ মুহূর্ত। ৩০ বছরের ধৈর্য্য, ৩০ বছরের সংগ্রাম এবং ৩০ বছর ধরে স্বীকৃতি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানোর পর এটি সম্ভব হয়েছে।

চুক্তিটির খসড়া প্রকাশের পর বিবিসি দাবি করেছে, এতে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের বিষয়ে দিক-নির্দেশনার অভাব রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এ বিষয়টি নিয়ে বেশ নাখোশ ছিল। তাত্পর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কপ২৬ সম্মেলনে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের পরিকল্পনা প্রতি বছর নবায়ন করতে হবে।

কিন্তু কপ২৭ সম্মেলনে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার মতো কিছু নেই। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতেও কোনো ব্যবস্থার কথা বলা হয়নি। এছাড়া নতুন খসড়া চুক্তিতে কারা, কীভাবে অর্থায়ন করবে- সেই সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট কথা বলা হয়নি।

এর আগে চুক্তি সম্পাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কপ২৭ সম্মেলনে ইইউ আলোচক ফ্রান্স টিমারম্যান্স সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমরা কোনো খারাপ চুক্তি করার চেয়ে বরং কোনো চুক্তিতেই যাবো না।

এ সময় তিনি আরো বলেছিলেন, ইইউ এমন কোনো চুক্তি করবে না, যাতে উষ্ণায়ন দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্য হারিয়ে যায়। উল্লেখ্য, উষ্ণায়নের লাগাম টানতে ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং গত বছর স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কপ সম্মেলনের প্রতিশ্রুতিতে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়।

এর আগে উন্নয়নশীল দেশের ক্ষতিপূরণের দাবি পূরণে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল মিসর। ওই চুক্তিতে সাড়া দেওয়া নিয়ে দেন-দরবার চলছিল।

এ বিষয়ে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং চলতি কপের সভাপতি সামেহ শুকরি বলেন, তিনি সম্ভাব্য চুক্তিটির গুরত্বপূর্ণ অগ্রগতি নিয়ে এখনও আশাবাদী। সম্ভাব্য চুক্তির খসড়াকে তিনি সবার জন্য ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ বলে দাবি করেন।

খবরে আরো বলা হয়, ইইউ বিনা শর্তে ওই ধরনের কোনো চুক্তিতে যেতে রাজি ছিল না। ইইউ এর আশঙ্কা ছিল, চুক্তির পর বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখতে যে বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেটি অবজ্ঞা করা হতে পারে।

ইইউ আপত্তি জানিয়ে আরো বলেছিল যে, চীন এবং ভারত এখন আর উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে পড়ে না। এ দুটি দেশ এখন বিশ্বের অন্যতম বড় দুই অর্থনীতি এবং গ্রিন হাউস গ্যাসের অন্যতম প্রধান নিঃসরণকারী। এ ছাড়া বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় চীন, ভারত, ইন্দেনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরবের সঙ্গে মালদ্বীপ, মালি কিংবা মৌরিতানিয়া একই অবস্থানে থাকতে পারে না।
সূত্র: বিবিসি, এএফপি, গার্ডিয়ান

সুন্দরী তরুণীর প্রেমের ফাঁদে পড়ে ৪১ লক্ষ টাকা খোয়ালেন যুবক

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.