প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে দীক্ষিত হয়ে দেশ গঠনে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তার বড়ো ছেলে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশ পুনর্গঠনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সবার সহযোগিতাও চেয়েছেন সরকারপ্রধান।

শনিবার (৩০ মে) জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ১৬টি স্পটে দিনব্যাপী দুস্থ ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে উপহারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি এ আহবান জানান।
‘স্মরণ যদি মানুষের জন্য না হয়, তবে তা কেবলই আনুষ্ঠানিকতা’—এই নীতিকে সামনে রেখে এবারের কর্মসূচিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগটিই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জিয়াউর রহমান যে আত্মনির্ভরতা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং জনমুখী রাষ্ট্রচিন্তার কথা বলেছিলেন, তারই প্রতিফলন দেখতে চান বর্তমান সরকারেরপ্রধান।
কর্মসূচির বিভিন্ন স্পটে দেওয়া বক্তব্যে মানুষের কল্যাণকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার বার্তা দেন তিনি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান জানান, একটি দেশের অগ্রযাত্রা কেবল সরকারের একার প্রচেষ্টায় নয়, বরং নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই সম্ভব।
রাজধানীর বাড্ডায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তারেক রহমান সচ্ছলদের দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, সমাজের বিত্তবানদের সঠিক খাতে ও সঠিক মানুষকে জাকাত প্রদান করতে হবে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা সম্ভব।
কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে কাজ করছে সরকার। তিনি আহবান জানিয়ে বলেন, দেশ কারো একার নয়, সবাই মিলে দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ করতে হবে। আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে তথা উৎপাদনমুখী হাতে রূপান্তর করতে হবে।
খিলগাঁওয়ের অনুষ্ঠানে নাগরিক দায়িত্বের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিটি কর্পোরেশন তার কাজ করবে, শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবে। তবে নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে। নিজের ঘর ও আঙিনা নিজেকেই পরিষ্কার রাখতে হবে এবং যতোটুকু কম ময়লা করা যায়, সেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন থাকলে বিএনপি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে।
এরপর যাত্রাবাড়ী ও ধোলাইখালের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান দেখিয়ে গেছেন কীভাবে স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠন করতে হয়। আসুন, আমরা সবাই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াই। যে যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্র গঠনে সহযোগিতা করলে দেশের ভাগ্য দ্রুত পরিবর্তন করা সহজ হবে।
জুরাইন রেলগেটে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ গঠনে সবাইকে কাজ করতে হবে। আমরা নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পালন করতে পর্যায়ক্রমে কাজ করছি।
কোরবানির পর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মোটামুটিভাবে কাজ করেছে। তবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর রাস্তাঘাট সুন্দর, কারণ সেখানকার মানুষ যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে না।
ধানমন্ডিতে দিনের শেষ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনীতির মুক্তিতে কাজ করার প্রত্যাশার কথা জানান।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
দিনব্যাপী এই উপহারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিসহ দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



