
সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের শিবালয়ে জীবিত ব্যক্তিকে প্রতারণা করে মৃত্যুসনদ তৈরি করায় চেয়ারম্যান ও দুই মেম্বারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী সফিকুল ইসলাম (৬৩) নিজে বাদী হয়ে শিবালয় থানায় মৃ অভিযোগে মামলা করেন।
পরে শিবালয় থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নারী ইউপি সদস্য শারমিন আক্তারকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত শারমিন আক্তার শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮, ৯নং ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য। সে উপজেলার নবগ্রাম এলাকার মামলার বাদী সফিকুল ইসলামের স্ত্রী। শনিবার (২ অক্টোবর) সকালে তাকে কোর্টহাজতে পাঠানো হয়। মামলার অপর দুই আসামি হলেন- শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাল উদ্দিন (৩৯), ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রউফ খান (৬০)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, সফিকুল গত ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে ঋণ তোলার জন্য যান। এ সময় কাগজপত্র দেখে সংশ্লিষ্ট অফিসার জানায় এই নামের ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রমাণ হিসাবে শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিনের স্বাক্ষরিত মৃত্যুসদন দেখানো হয়। পরে বিষয়টি মেম্বার চেয়ারম্যানকে অবগত করলে তারা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে লাশ গুম করবে বলে কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ কবির জানান, সফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তাকে জীবিত অবস্থায় চেয়ারম্যান-মেম্বারের যোগসাজসে মৃত্যুসনদ দিয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে কারো কাছে জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পাওযায় মামলা এজাহারভুক্ত করা হয়। শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে মামলার তিন নম্বর আসামি শারমিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ তাকে কোর্টহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


