ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে আসা ৭টি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। রোববার সকালে কুতুবদিয়া ও মহেশখালী জলসীমায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বোঝাই জাহাজগুলো পৌঁছায়। এর মধ্যে এলএনজির ৫টি ও এলপিজিবাহী ২টি জাহাজ রয়েছে।

একইদিন মনো ইথিলেন গ্লাইকোল-এমইজি (প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল) বোঝাই একটি জাহাজ এসেছে। এছাড়া এলএনজি বোঝাই আরও ৩টি জাহাজ আগামী ৬ দিনের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রোববার বিকালে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধপরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহণে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশেও তেল-গ্যাস আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে আসা ৮ জাহাজের মধ্যে পাঁচটিতে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার টন এলএনজি।
দুটিতে আছে প্রায় ৪১ হাজার টন এলপিজি। এর আগে গত ৩ মার্চ ৬৩ হাজার ৩৮৩ টন এলএনজি নিয়ে কাতার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে এএল জোরে নামের একটি জাহাজ। গত ৫ মার্চ কাতার থেকে ৬৩ হাজার ৭৫ টন এলএনজি নিয়ে বন্দরে এসেছে এএল জাসাসিয়া।
এছাড়া ওমান থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি বোঝাই জাহাজ এলপিজি সেভেন। তার আগে একই দেশ থেকে ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলজিপি নিয়ে এসেছে জি ওয়াইএমএম নামের জাহাজ। এছাড়া গত ৫ মার্চ ৫ হাজার ১৯ টন এমইজি (মনো ইথিলেন গ্লাইকোল) বোঝাই লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘বে ইয়াসু’ নামের একটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে।
এদিকে কাতার থেকে সোমবার (৯ মার্চ) ৬২ হাজার ৯৮৭ টন এলএনজি বোঝাই জাহাজ লুসাইল, ১১ মার্চ ৫৭ হাজার ৬৬৫ টন এলএনজি নিয়ে গ্যালায়েল এবং ১৪ মার্চ ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে লিব্রেথা নামের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা।
রোববার বিকালে বন্দর ভবনে সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম সাংবাদিকদের বলেন, বন্দরে সব ধরনের জাহাজ আসছে। মাল খালাস করে চলে যাচ্ছে। কোথাও কোন প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে না। রোববার যে জাহাজগুলো বন্দরে এসেছে সেগুলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে হরমুজ প্রণালী জলপথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। ফলে এগুলো নিরাপদে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। আরও তিনটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পরবর্তীতে ইরান জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিলে বৈশ্বিক তেল পরিবহণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। গ্লোবাল অয়েল করিডোর হিসেবে খ্যাত সরু পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। এ প্রণালী ব্যবহার করে ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে পণ্য আনা-নেওয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বিশ্বের অনেক শিপিং কোম্পানি তেল পরিবহন বন্ধ রেখেছে। এমন অস্থিরতায় বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় গত শুক্রবার জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


