জুমবাংলা ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সপরিবারে টিকা নিয়ে সুরক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আপনারা নিজে এবং পরিবারের সবাই যেন টিকা নেয় সেদিকে যত্নবান হওয়ার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি। একইসাথে বাহিনীকে অনুরোধ জানাবো, গ্রামে-গঞ্জে আপনারা মানুষকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করবেন। যাতে করে এই মহামারি থেকে বাংলাদেশের মানুষ যেন মুক্তি পায়।’
বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে ৪১তম জাতীয় সমাবেশের ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
করোনা পরিস্থিতিতে এ বছর প্রধানমন্ত্রী সশরীরে একাডেমিতে না গিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে অনেকটাই ভার্চুয়াল বাস্তবতায়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীত বাজিয়ে বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সশস্ত্র সালাম জানানো হয়।
বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাহিনীর ১৪০ জন সদস্যকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
পরে, বাহিনীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা পর্যন্ত প্রত্যেকটি অর্জনে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই বাহিনী একটি জনম্পৃক্ত বাহিনী। ৫০ হাজারের অধিক অঙ্গীভূত পুরুষ ও মহিলা আনসার সদস্য। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রেখে চলেছেন।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আমরা চেষ্টা করেছি আনসার বাহিনীর উন্নয়নে কাজ করতে। আনসারের জন্য পদোন্নতিসহ রেশন সুবিধা, বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা, ঝুঁকি ভাতা প্রণয়নের পদক্ষেপগুলো আওয়ামী লীগ নিয়েছিল।’
আওয়ামী লীগ সরকার এই বাহিনীর উন্নয়নে আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে আনসার বাহিনীর মাধ্যমে। বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পে আনসার বাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।’
আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক নামে একটি ব্যাংক আমরা প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছি জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘যাতে বাহিনীর সদস্যরা ঋণ নিয়ে তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী করে নিতে পারে।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘এই বাহিনী সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নি সন্ত্রাসের সময়, জীবন্ত মানুষগুলোকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছিল। রেলে আগুন দেয়া বা লাইন সরিয়ে ফেলে মানুষের ক্ষতি করার মতো ঘটনা সে সময় ঘটিয়েছে তারা। সেই সব জায়গায় মানুষের জানমাল রক্ষায় তখন আনসার বাহিনীকে আমরা সম্পৃক্ত করেছিলাম এবং তারা তখন দক্ষতার সাথে এসব অপকর্ম মোকাবিলা করেছিল। সেজন্য এই বাহিনীর সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
বাল্যবিবাহ রোধ, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ নির্মূলে বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসবের সাথে যাতে আমাদের যুবসম্প্রদায় সম্পৃক্ত না হয়, সেদিকে আপনাদের আরো সক্রিয় থাকা প্রয়োজন।’
সরকার মহামারির কবল থেকে দেশবাসীকে রক্ষায় সবধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকে আমরা করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করছি। আমি আনসার-ভিডিপির প্রত্যেকটা সদস্যকে অনুরোধ করবো, যাতে প্রতিটি মানুষ টিকাটা নেয়। কেননা, আমরা টিকা দেয়া শুরু করেছি। অনেকে সূঁচ ফোটাতেও ভয় পান। এমনও কিছু কিছু মানুষ আছে! তারা যাতে রোগাক্রান্ত না হয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলা, পাশাপাশি টিকাটা তারা যাতে নেন, সেই ব্যাপারে আপনাদের সহযোগিতা চাই।’
সবাইকে টিকা নিয়ে সুরক্ষিত থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা টিকা নেয়ার পরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।’
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


