মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের পরেই এশিয়ায় তেলের দাম বেড়ে গেছে। সকালের লেনদেনে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শেয়ারের দরপতনও ঘটে। বিবিসির প্রতিবেদনে এই কথা বলা হয়েছে।

এই ভাষণে যুদ্ধ শেষ হবে কি না এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌপরিবহন স্বাভাবিক হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো আশ্বাস বা নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।
ফলে, ট্রাম্প বিশ্ব বাজারকে শান্ত বা আশ্বস্ত করতে পারেননি। ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বব্যাপী ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলারে পৌঁছে যায়। এশিয়ার শেয়ার বাজারও নিম্নমুখী হতে শুরু করে।
যদিও ট্রাম্প তার বক্তব্যে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার কথা জানিয়েছেন।
এই যুদ্ধ ঠিক কিভাবে শেষ করবেন, ওই সম্পর্কে তিনি বিনিয়োগকারীদের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।
চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানকে বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি বাজারকে আশ্বস্ত করতে পারেনি। এমনকি এই মাসে সংঘাত শেষ হয়ে গেলেও, হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরায় শুরু হতে যথেষ্ট সময় লাগবে।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার বেশির ভাগ সামরিক লক্ষ্য খুব শিগগিরই পূরণ করতে যাচ্ছে।
’ তিনি বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই আমাদের সব সামরিক লক্ষ্য শেষ করার পথে রয়েছি। তবে আমরা তাদের (ইরান) ওপর খুব কঠিন আঘাত হানব। ট্রাম্প আরো জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
প্রশাসন এই সংঘাতের উদ্দেশ্য নিয়ে বারবার ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একদিকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কথা বলেছেন, আবার অন্যদিকে প্রয়োজনে সংঘাত আরো বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছেন।
এদিকে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, ট্রাম্পের এমন দাবির সঙ্গে একমত নন ইরানের নেতারা।
এক মাসের কিছু বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানের পর মাত্র দুই মাসের মধ্যে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বড় সামরিক পদক্ষেপ। ট্রাম্পের ভাষায়, একটি ‘সুনির্দিষ্ট অভিযান’ চালিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ আরো এক ডজনের বেশি শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়।
তবে গত এক মাসে এই সংঘাতের ক্ষতি ক্রমেই বাড়ছে, অর্থনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে এবং প্রাণহানিও ঘটছে। ইরানের নেতারা হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে দিয়েছে, যা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
আরও পড়ুনঃ
বুধবার ট্রাম্প বলেন, গ্যাসের দামের এই বৃদ্ধি ‘স্বল্প সময়ের জন্য’ হবে। তার মতে, বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানের হামলার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


